মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Tuesday, 11 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
11 August 2026
অন্যান্য

বলিউডের শীর্ষ থেকে আমেরিকায় ‘শূন্য’ দিয়ে শুরু করলেন প্রিয়াঙ্কা

বলিউডে যখন নিজের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছেন, তখনই নতুন এক স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন আমেরিকায়। সামনে ছিল না কোনো নিশ্চয়তা, ছিল না পরিচিতির বাড়তি সুবিধা। আন্তর্জাতিক বিনোদন জগতে নিজের জায়গা করে নিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে আবারও শুরু করতে হয়েছিল একেবারে শূন্য থেকে। সেই কঠিন পথ পেরিয়েই আজ তিনি বলিউডের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক তারকা।

হলিউডে একের পর এক বড় প্রকল্পে কাজ করার পাশাপাশি ফের ভারতীয় সিনেমায় ফিরছেন প্রিয়াঙ্কা। এস এস রাজামৌলির মহেশ বাবু অভিনীত ‘বারাণসী’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। পাশাপাশি হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা রাসেল ক্রোর সঙ্গে ‘ব্লুফ্লাই’ নামের সায়েন্স ফিকশন অ্যাকশন-থ্রিলারেও অভিনয় করতে চলেছেন তিনি।

তবে এই সাফল্যের পেছনের গল্পটা মোটেও রাতারাতি তৈরি হয়নি। বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ অপেক্ষা, ব্যর্থতা, অনিশ্চয়তা এবং বারবার নতুন করে শুরু করার সাহস।

‘কোয়ান্টিকো’র আগের সাত বছরের লড়াই

অনেকের ধারণা, ‘কোয়ান্টিকো’ সিরিজে সুযোগ পাওয়ার পরই যেন এক লাফে হলিউডে পরিচিতি পান প্রিয়াঙ্কা। কিন্তু তাঁর ম্যানেজার অঞ্জুলা আচারিয়ার বক্তব্য, বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সম্প্রতি মাসুম মিনাওয়ালার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় প্রিয়াঙ্কার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন অঞ্জুলা। তাঁর দাবি, ‘কোয়ান্টিকো’তে সুযোগ পাওয়ার আগে টানা সাত বছর ধরে প্রিয়াঙ্কার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা চলেছে।

অঞ্জুলার ভাষায়, প্রিয়াঙ্কার সাফল্যকে বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা ছিল না। আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়ার আগে দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের চেষ্টা করতে হয়েছে। পরে ‘কোয়ান্টিকো’র সাফল্যের পর ‘ভোগ’ ও ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এর মতো আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদেও জায়গা করে নেন প্রিয়াঙ্কা।

তারকা হয়েও ‘শূন্য’ থেকে শুরু

প্রিয়াঙ্কার সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে অঞ্জুলা তাঁর বিনয় ও শেখার মানসিকতাকে তুলে ধরেছেন। বলিউডে তখন তিনি প্রতিষ্ঠিত তারকা। কিন্তু আমেরিকায় গিয়ে সেই পরিচয়কে আঁকড়ে না ধরে নতুন করে নিজের জায়গা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন প্রিয়াঙ্কা।

অঞ্জুলা জানান, ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থাতেও প্রিয়াঙ্কা তাঁর সঙ্গে আমেরিকায় গিয়ে সম্ভাব্য কাজের জন্য বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে দেখা করেছেন। এমনকি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে কাজের সুযোগ খুঁজেছেন।

অন্য একটি দেশে গিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠিত অবস্থানকে পাশে রেখে একেবারে নতুন করে শুরু করা যে কতটা কঠিন, সেটিই প্রিয়াঙ্কার যাত্রায় স্পষ্ট হয়েছে। অঞ্জুলার মতে, প্রিয়াঙ্কার মধ্যে তারকা হওয়ার অহংকার ছিল না। বরং তাঁর কাছ থেকেও বিনয় শেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে।

গায়িকা হওয়ার পরিকল্পনা, তারপর বদলে গেল পথ

প্রিয়াঙ্কার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম পরিকল্পনা অবশ্য অভিনয়কে ঘিরে ছিল না। তাঁকে আন্তর্জাতিক বাজারে গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

প্রায় ১৭ বছর আগে জিমি আইভিনের সঙ্গে একটি মিউজিক লেবেল প্রতিষ্ঠা করে প্রিয়াঙ্কাকে সেখানে যুক্ত করেছিলেন অঞ্জুলা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। গায়িকা হিসেবে প্রিয়াঙ্কার ক্যারিয়ারও সেভাবে এগোয়নি।

এরপর পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। প্রিয়াঙ্কার ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব নিয়ে তাঁকে টেলিভিশনের মাধ্যমে হলিউডে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা শুরু করেন অঞ্জুলা। শুরুতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রিয়াঙ্কার মধ্যেও দ্বিধা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘কোয়ান্টিকো’ই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

অঞ্জুলার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘কোয়ান্টিকো’র আগে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থেকে তেমন কোনো আয়ও হচ্ছিল না। এই সিরিজ থেকেই প্রথম বড় পারিশ্রমিক আসে।

সাফল্যের আড়ালে যে শিক্ষা

আজকের প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আন্তর্জাতিক বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। হলিউডের পাশাপাশি ভারতীয় সিনেমাতেও তাঁর কাজের পরিধি বাড়ছে। কিন্তু তাঁর এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথটি ছিল দীর্ঘ ও অনিশ্চিত।

বলিউডের প্রতিষ্ঠিত তারকা হয়েও বিদেশের মাটিতে গিয়ে নতুন করে নিজের পরিচয় তৈরি করার সিদ্ধান্তই তাঁকে আলাদা করেছে বলে মনে করেন অঞ্জুলা। ব্যর্থতার পর পরিকল্পনা বদলানো, নতুন সুযোগের জন্য অপেক্ষা করা এবং নিজের অবস্থানকে একপাশে রেখে প্রয়োজনমতো শূন্য থেকে শুরু করার মানসিকতাই প্রিয়াঙ্কার আন্তর্জাতিক সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।

তাই প্রিয়াঙ্কার ‘কোয়ান্টিকো’ থেকে শুরু করে একের পর এক আন্তর্জাতিক প্রকল্পে পৌঁছে যাওয়ার গল্প শুধু একজন অভিনেত্রীর সাফল্যের কাহিনি নয়। এটি ব্যর্থতার পরও থেমে না গিয়ে নতুন পথে হাঁটার গল্প। আর সেই কারণেই তাঁর যাত্রা হয়ে উঠেছে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণারও এক দৃষ্টান্ত।