মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Wednesday, 12 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
12 August 2026
অন্যান্য

হরমুজ ঘিরে নতুন হামলা, ফের অচল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা নতুন করে অচলাবস্থায় পড়ার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে পৃথক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে যুদ্ধের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে মিশরীয় মালিকানাধীন ‘তিহামাহ’ নামের একটি ছোট কার্গো জাহাজে সন্দেহভাজন হুথি হামলায় চার ক্রু নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এ ঘটনায় হুথিবিরোধী একটি সামরিক গোষ্ঠীর দুই ইয়েমেনি উদ্ধারকর্মীও নিহত হয়েছেন বলে দেশটির কোস্টগার্ড জানিয়েছে।

হুথিদের পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবা দাবি করেছে, তারা বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে জাহাজটির নাম জানানো হয়নি এবং সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজকে থামাতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। জাহাজটি ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে দেওয়া নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করে বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

সামুদ্রিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, পাকিস্তানের উপকূলের কাছে ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়।

হরমুজ বন্ধ রাখার হুমকি ইরানের
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে না।

ইরানের শর্তের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের অবসান, দেশটির জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং লেবানন ও গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত বন্ধ করা।

রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ পরিবর্তন করে ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্রাম্পের পাল্টা হুঁশিয়ারি
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরাই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছি। অন্য কেউ নয়, শুধু আমরা।’

ইরান কোনো পদক্ষেপ নিলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের ‘প্রভাবশালী শক্তি’ নয়।

যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প কখনও উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন, আবার কখনও দ্রুত শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার কথা বলছেন। সর্বশেষ তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা কিংবা আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্যে যেকোনো পথ বেছে নিতে পারেন।

এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি বলেছেন, তাদের বাহিনী প্রয়োজনে ‘শত্রুর ভূখণ্ডে’ অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা গড়ে তুলছে। তার এ বক্তব্য সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

রয়টার্স জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানও ওমান, জর্ডান, কুয়েত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন সম্পদ ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় জাহাজে নতুন হামলা, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ইরানি ঘোষণা এবং ওয়াশিংটনের পাল্টা হুঁশিয়ারিতে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।