12 August 2026
দুই মাসে ৬ মোবাইল বিস্ফোরণ, দুইজনের মৃত্যু: নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

বাংলাদেশে একের পর এক স্মার্টফোন বিস্ফোরণের ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ। গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে (গাজীপুর, সাভার, কুষ্টিয়া, কুড়িল, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ) অন্তত ৬টি মোবাইল বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক কলেজ শিক্ষার্থীর পকেটে থাকা ‘অনার ২০০’ (Honor 200) মডেলের একটি স্মার্টফোন বিস্ফোরিত হয়েছে।
ভুক্তভোগী আবদুল্লাহিল কাফি জানান, বাইক চালিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি কুকুর সামনে চলে আসায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যান। এ সময় তাঁর ডান পকেটে থাকা ‘অনার ২০০’ মডেলের স্মার্টফোনটি বিস্ফোরিত হয়।
কাফি বলেন, ‘৩৮ হাজার টাকা দিয়ে নতুন ফোনটি কিনেছিলাম। কিন্তু ফোন বিস্ফোরণ হয়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে মুহূর্তের মধ্যে প্যান্টে আগুন ধরে যায়। তবে দ্রুত সরে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি।’
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মার্টফোনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মোবাইল ব্যবহারকারী রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ম্যানুফেকচারিং ত্রুটিও দায়ি। প্রতিবছর কত হাজার বাইক দুর্ঘটনা হয়। মানুষ মরে যায় কিন্তু পকেটের ফোন ঠিকঠাকই থাকে, খুব বেশি হলে গ্লাস ফেটে যায়।’
মোবাইল ব্যবহারকারী রবিউল আকন্দ বলেন, ‘অনার দেখি আসলেই ব্লাস্ট হচ্ছে। দুর্ঘটনায় ফোন বিস্ফোরিত হবে কেনো? অনেক দুর্ঘটনার খবর দেখেছি, কিন্তু এমনটা দেখিনি। এই ফোন আর কিনতে চাই না।’
মামুনুর রশিদ নামের এক মোবাইল ব্যবহারকারী বলেন, ‘তাহলে তো দেখি টাইমবোমা পকেটে নিয়ে ঘুরছি। বাইক এক্সিডেন্ট হলে মোবাইল বোমা হয়ে ফুটবে কেন?’
তবে এই ঘটনার বিষয়ে অনার কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ১৪ জুলাই ২০২৬ রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অনার ব্র্যান্ডের ‘অনার ২০০’ (Honor 200) মডেলের একটি স্মার্টফোন হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়।
এছাড়াও গত ২৪ জুন ২০২৬ সকালে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলামের পকেটে থাকা VIVO Y12 মডেলের একটি মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আবার, গত ২১ জুন ২০২৬ টঙ্গীর একটি আবাসিক এলাকায় VIVO Y20 মডেলের একটি স্মার্টফোন বিস্ফোরিত হয়।
অন্যদিকে, গত ১৪ জুন ২০২৬ আশুলিয়ায় মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজানুর রহমান (৪৪)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার রাতে বিকট শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে যান। তখন ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে রুমের বারান্দার তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণের ফলে ঘরের কিছু আসবাবপত্রও পুড়ে যায়।
