মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Wednesday, 12 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
12 August 2026
অন্যান্য

সুন্দরবনের জলদস্যুদের অন্ধকার জগতের গল্প শোনাতে খুবিতে আসছেন মোহসীন-উল হাকিম

সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে জলদস্যুদের দাপট, জেলে ও বনজীবীদের আতঙ্ক, দস্যুদের আস্তানায় সাংবাদিকের যাতায়াত এবং শেষ পর্যন্ত তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার গল্প - এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে কথা বলতে আসছেন সাংবাদিক ও লেখক মোহসীন-উল হাকিম।

‘সাংবাদিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি বক্তব্য দেবেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে আগামী ১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে।

মোহসীন-উল হাকিম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উপকূলীয় জনপদ, সুন্দরবন এবং প্রান্তিক মানুষের জীবন-সংগ্রাম নিয়ে সাংবাদিকতা করে আসছেন। যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই সাংবাদিক সুন্দরবনের জলদস্যুদের নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন।

সুন্দরবনের জলদস্যুদের নিয়ে তাঁর কাজ শুধু সংবাদ প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দস্যুদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করে তাদের আত্মসমর্পণ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়ায়ও তিনি ভূমিকা রাখেন। ২০১৫-১৬ সালের দিকে সুন্দরবনের অন্যতম বড় জলদস্যু দল ‘মাস্টার বাহিনী’র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়লে তাদের আত্মসমর্পণের বিষয়েও মোহসীন-উল হাকিমের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়।

সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পেছনের গল্প নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘সুন্দরবনের জলদস্যুদের জীবনে ফেরার গল্প’ বইটি। ২০২১ সালে প্রকাশিত বইটিতে সুন্দরবনের দস্যুদের জীবন, তাদের অপরাধজগত এবং আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার নানা ঘটনা উঠে এসেছে।

সুন্দরবনের জলদস্যুদের নিয়ে তাঁর সাংবাদিকতার স্বীকৃতিও রয়েছে। ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গে ‘শুধু সুন্দরবন চর্চা পুরস্কার’ পান তিনি। সুন্দরবনের জলদস্যুদের নিয়ে লেখা তাঁর বইয়ের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

মোহসীন-উল হাকিমের সুন্দরবনকেন্দ্রিক সাংবাদিকতার শুরু মূলত উপকূলীয় মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সংকটকে কাছ থেকে দেখার মধ্য দিয়ে। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকায় কাজ করতে গিয়ে তিনি জেলেদের কাছে সুন্দরবনের জলদস্যুদের ভয়াবহতার কথা জানতে পারেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বহুবার সুন্দরবনে গিয়ে দস্যুদের আস্তানা ও জীবনযাপন প্রত্যক্ষ করেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন।

একপর্যায়ে তাঁর সাংবাদিকতা কেবল ‘দস্যুদের নিয়ে সংবাদ’ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং দস্যুদের আত্মসমর্পণ এবং তাদের পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ে। সুন্দরবনের দীর্ঘদিনের জলদস্যুতার অবসানে এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা সভায় সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সমাজের প্রতি গণমাধ্যমকর্মীদের দায়বদ্ধতা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা, প্রান্তিক মানুষের কথা তুলে ধরা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ এবং সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অনুষ্ঠানে সুন্দরবনের জলদস্যুদের নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার বিষয়টি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। ফলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের কাছেও অনুষ্ঠানটি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।

অনুষ্ঠানের একই পর্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হবে। এতে সমিতির বিদায়ী ও নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি সাংবাদিকতা চর্চা, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বিকাশ নিয়ে আলোচনা হবে।

আয়োজকরা জানান, সাংবাদিকতার সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার সম্পর্ককে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। মাঠের বাস্তবতা, মানুষের গল্প এবং সাংবাদিকতার সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে মোহসীন-উল হাকিমের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করবে।