মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Thursday, 13 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
12 August 2026
অন্যান্য

৩৬ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত নারী উদ্ধার

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের ৩৬ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে। ড্যানিয়েলা লার্গো নামের ওই নারীকে উদ্ধারে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালান উদ্ধারকর্মীরা। চারটি বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে আটকে থেকেও শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেরেইরায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন লার্গো। স্থানীয় এক বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উদ্ধারকর্মীরা।

ছোট একটি ক্যামেরার সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে লার্গোর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তবে তার কাছে পৌঁছানোর পথ আটকে ছিল চারটি ভারী কংক্রিটের স্ল্যাব। ফলে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় দমকলকর্মীদের সঙ্গে রাজধানী বোগোতা থেকে আসা উদ্ধারকর্মী এবং জাতীয় পুলিশের দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যরা মিলে তাকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেন। লার্গোর কাছে পৌঁছাতে দুটি সুড়ঙ্গ খনন করা হয়। ওপর থেকে খনন করা একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে তার কাছে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে নিচ থেকে আরেকটি সুড়ঙ্গ তৈরি করে তাঁকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা।

লার্গোর মা এএফপিকে বলেন, ‘বাড়িতে তার ১২ বছরের ছেলে তার জন্য অপেক্ষা করছে।’

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লার্গোর উদ্ধারের খবরকে ‘আশায় ভরিয়ে দেওয়ার মতো সংবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন।

ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি হিসাবে জানা গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক শ মানুষ।

কলম্বিয়ার কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পেরেইরায় অন্তত ৯২টি ভবন ধসে পড়েছে। সেখানে ১৫ জন ধ্বংসস্তূপে আটকা রয়েছেন এবং আরও ৩৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কলম্বিয়ার রাজধানী শহরগুলোর সংগঠন অ্যাসোক্যাপিটালেস।

দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালি-তেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেখানে ২০০ জনের বেশি মানুষ আটকা ছিলেন। এ পর্যন্ত শহরটিতে ৮৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতে কারফিউ জারি করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেনা টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে। ভূমিকম্পের কম্পন বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয় এবং উৎপত্তিস্থলের কাছের সিসমোমিটারে ৯০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিট পর্যন্ত কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।

এরপর থেকে ১০০টিরও বেশি আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়েছে।