14 August 2026
কলমাকান্দায় গোরস্থান নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে পুরোনো গোরস্থানের আধিপত্য ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় ৫০-৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া এবং পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ার মধ্যবর্তী স্থানে প্রায় ১৪৪ শতাংশ আয়তনের একটি পুরোনো গোরস্থান রয়েছে। গোরস্থানের মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছিল। আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা গোরস্থানের রাস্তার পাশের অংশে দোকান নির্মাণ করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন এতে বাধা দেন।
তাদের দাবি, জমিটি ওয়াকফকৃত এবং কেবল কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হলেও বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হয়নি। শুক্রবার গোরস্থানে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় ৫০-৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর করা হয়। এমনকি একটি বিয়ের বাড়ির গেট ও গরুর খামারেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, হামলাকারীরা প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া বলেন, গোরস্থানটি ৮০-৯০ বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা দেখাশোনা করে আসছেন। সম্প্রতি তারা সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে গোরস্থানের মাটি কাটিয়েছেন। এছাড়া দেয়াল ও পিলার নির্মাণের জন্য এক লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান। তাদের অভিযোগ, আমগড়া গ্রামের লোকজন সেখানে দোকান নির্মাণ করতে চায়।
অন্যদিকে আমগড়া গ্রামের কামাল পাশা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোরস্থানের আধিপত্যকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। তাদের পক্ষের অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের নির্দেশে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গোরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ইউনিয়ন পরিষদ করবে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো পক্ষ এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
