মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Friday, 14 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
14 August 2026
অন্যান্য

হরমুজগানে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ও দামি ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

ইরান জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের আকাশসীমায় একটি মার্কিন তৈরি এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে দেশটির বাহিনী।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নতুন অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে হরমুজগান প্রদেশের আকাশে একটি এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত ও ভূপাতিত করা হয়।

মার্কিন এমকিউ-৯ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক এবং ভারী সশস্ত্র ড্রোন। জেনারেল অ্যাটমিকস অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমস কর্তৃক নির্মিত এই ড্রোনটি মূলত নজরদারি এবং সুনির্দিষ্ট স্থানে নিখুঁত হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো, ড্রোনটি একটানা প্রায় ২৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ৫০,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে পারে। ড্রোনটিতে হেলফায়ার মিসাইল এবং লেজার-গাইডেড বোমার মতো মারাত্মক অস্ত্র বহন করা যায়। একটি এমকিউ-৯ ড্রোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা)।

এদিকে বৃহস্পতিবার তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। এটি মার্কিন বহরে থাকা এ ধরনের ড্রোনের প্রায় ২৫ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নজরদারি ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় ব্যবহৃত প্রতিটি রিপার ড্রোনের মূল্য সরঞ্জামভেদে ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। হারানো ড্রোনগুলোর সম্ভাব্য মোট মূল্য ১৩০ কোটি ডলারের বেশি।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে এসব ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ধীরগতিতে ও অনেক সময় নিচু দিয়ে উড়ায় ইরান ও দেশটির মিত্রদের কাছে এগুলো তুলনামূলক সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে।

হরমুজগান প্রদেশটি হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী। গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগর বান্দার আব্বাসও এ প্রদেশে অবস্থিত।

এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। পরে ১৭ জুন দুই দেশ একটি চুক্তিতে সই করে চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করে। তবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।

৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের সামরিক হামলা-পাল্টা হামলা হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি