মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Saturday, 15 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
14 August 2026
অন্যান্য

এলএনজি সরবরাহে নতুন ধাক্কা, ফের বন্ধ এক্সিলারেট

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে আবারও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। মজুত শেষ হয়ে যাওয়া এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন এলএনজি কার্গো টার্মিনালে ভিড়তে না পারায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) সামিটের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চাপ ধীরে ধীরে বাড়িয়ে রাত ২টার মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সামিটের সরবরাহ ফিরতেই নতুন করে ধাক্কা এসেছে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৯টার দিকে আবার সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এর আগে গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়। পরে ৫ আগস্ট রাতে টার্মিনালটির একটি বয়লার চালু করে সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। তখন দৈনিক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হলেও চাহিদার তুলনায় তা ছিল অপ্রতুল। এই পরিস্থিতিতে দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় সামিটের টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। কিন্তু মজুত ফুরিয়ে যাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে নতুন কার্গো ভিড়তে না পারায় বৃহস্পতিবার সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সামিট থেকে সরবরাহ ফের শুরু হলেও একই সময়ে এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কতটা স্বাভাবিক থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দুটি টার্মিনালের যেকোনো একটিতে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেই দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়ছে। ফলে একদিকে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় ফিরতে না পারা, অন্যদিকে আবহাওয়াজনিত কারণে সামিটের সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত, দেশের গ্যাস সংকটকে আরও নাজুক করে তুলছে।

এ অবস্থায় রাতের মধ্যে এক্সিলারেটের সরবরাহ পুনরায় শুরু হয় কি না এবং সামিট কত দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারে, তার ওপরই আগামী কয়েক ঘণ্টায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে।