মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Saturday, 15 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
15 August 2026
অন্যান্য

কালীগঞ্জে প্রকৌশলী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় শোকের ছায়া

গাজীপুরের কালীগঞ্জে নিজ ঘর থেকে জয় প্রধান (২৬) নামের এক তরুণ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের চুয়ারিয়াখোলা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সম্ভাবনাময় এক তরুণ প্রকৌশলীর এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত জয় প্রধান ওই এলাকার বিজয় প্রধানের ছেলে। তিনি রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়িতে ফেরেন জয়। রাতের খাবারের পর তিনি নিজের শোবার ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। শনিবার সকালে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি ঘর থেকে বের না হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। স্বজনেরা দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। একপর্যায়ে উপায়ান্তর না দেখে স্বজনরা জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতর উঁকি দিলে জয়ের নিথর দেহ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

স্বজনদের আর্তনাদে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, জয় অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের এবং মেধাবী ছিলেন। প্রকৌশল বিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করে ভালো একটি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। তার এমন রহস্যজনক মৃত্যু বা আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই জানাতে পারেননি। তবে কোনো মানসিক অবসাদ কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের পুলিশের একটি টিম চুয়ারিয়াখোলা এলাকায় গিয়ে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা না আত্মহত্যা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"

একজন উদীয়মান প্রকৌশলীর এমন করুণ বিদায় মেনে নিতে পারছেন না তার সহকর্মী ও এলাকাবাসী। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।