মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Wednesday, 19 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
19 August 2026
অন্যান্য

পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশনে অনিয়মের তদন্তসহ চার দাবিতে ছাত্রশক্তির স্মারকলিপি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের আবাসনসংক্রান্ত প্রস্তাবনা বাতিল, পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশনে অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, রিকশা ও দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের তদন্ত এবং ফজিলাতুন্নেছা হলের (ভিপি) এশী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখা।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকাল ৫ টায় জাবি উপাচার্যের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি পেশ করেন ছাত্রশক্তির জাবি সংসদের সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন।

স্মারকলিপিতে জাতীয় ছাত্রশক্তি চারটি দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো জাকসু ও হল সংসদের আবাসনসংক্রান্ত বিতর্কিত প্রস্তাবনা অবিলম্বে প্রত্যাহার,পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রতিবেদন প্রকাশ,রিকশা ও দোকান থেকে চাঁদা বা অননুমোদিত অর্থ আদায়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ফজিলাতুন্নেছা হলের ভিপি এশী সরকার ও তার সাথে প্রসাশনিকভাবে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, কোনো বিষয়ে রাজনৈতিক প্রভাব, সাংগঠনিক পরিচয় বা প্রশাসনিক ক্ষমতার মাধ্যমে তদন্তকে প্রভাবিত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, অধ্যাদেশ ও বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

স্মারকলিপি প্রদান পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “প্রথম দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি একটি প্রশাসনিক সভায় উত্থাপন করে দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের বিষয়েও তারা চিন্তা করবে। এ বিষয়ে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে। দ্বিতীয়ত, পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশনে যে অসংগতি এবং আলেয়া ফেরদৌসীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, সেটিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খতিয়ে দেখবে।"

"এছাড়া রিকশার প্রদানের জন্য চাঁদা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। বিশেষ করে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, সালাম বরকত হলের ভিপি মারুফ হোসেন ও কম্পিউটার অপারেটর মনির হোসেনসহ কল রেকর্ডে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি এসেছে, তাদের সংশ্লিষ্টতাসহ পুরো বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হবে। ফজিলাতুন্নেসা হলের ভিপি ঐশী সরকার এবং প্রশাসনিকভাবে তার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোও তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে" বলেও জানান আয়ান

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন,"আমরা অতিদ্রুত একটি প্রশাসনিক সভায় বিষয়গুলো উত্থাপন করে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবো এবং তদন্তের প্রয়োজন হলে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”