19 August 2026
নেত্রকোণায় বালু ও নিষিদ্ধ জাল জব্দ, ভুয়া দন্ত চিকিৎসকসহ ৬ জনের দণ্ড

নেত্রকোণায় জনস্বার্থ রক্ষা, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, নিষিদ্ধ জাল নির্মূল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোণা সদর ও দুর্গাপুর উপজেলায় পৃথক এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
কলমাকান্দা উপজেলার উজিয়াখালী বাজারে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা প্রায় ৩ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়। পরে বালু সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই অভিযানে উজিয়াখালী বিল থেকে নিষিদ্ধ ১০টি চায়না দুয়ারি জাল অপসারণ করে ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।
মোহনগঞ্জ পৌরসভার হাসপাতাল এলাকায় ভুয়া দন্ত চিকিৎসার অভিযোগে একজনকে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই অভিযানে একটি অবৈধ ডেন্টাল ক্লিনিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী অপর একজনকে ২০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এম. এ. কাদের।
নেত্রকোণা সদর উপজেলার বড়বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আবিদ ট্রেডার্সকে ৪০ হাজার টাকা এবং আয়েশা ট্রেডার্সকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক মজনুন ইশতি। অভিযানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন। এদিকে সদর উপজেলার মাছবাজার এলাকায় সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় ২০টি অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় দোকানের ছাউনি, বাঁশ, অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগের তার, পচা-গলা অবশিষ্টাংশ ও অন্যান্য আবর্জনা পৌরসভার সহযোগিতায় অপসারণ করা হয়।
দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ইন্দ্রপুর এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান।
অন্যদিকে নেত্রকোণা সদর উপজেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন সড়কে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দুইজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহাবুদ্দিন। জেলা প্রশাসন ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, জনস্বার্থবিরোধী ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
