মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Thursday, 20 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
20 August 2026
অন্যান্য

একজনও পাস করেনি, নাটোরের ১০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

নাটোরে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। জেলার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে দাখিল মাদ্রাসা, কারিগরি স্কুল ও কলেজ এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখা। এর মধ্যে সরকারি সুবিধাভোগী তিনটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

ফল প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার পেছনে কি শুধু তাদের দুর্বলতা দায়ী, নাকি রয়েছে প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনিয়মিত উপস্থিতি এবং তদারকির ঘাটতিও?

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে লালপুরের মোহরকয়া ও বিলমাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা, বাগাতিপাড়ার বাগাতিপাড়া পৌর মহিলা ও তমালতলা টেকনিক্যাল কলেজ, সিংড়ার বাহাদুরপুর দাখিল মাদ্রাসা এবং বড়াইগ্রামের কুমরুল ও আটুয়া কে.এস. দাখিল মাদ্রাসা। এই সাতটি প্রতিষ্ঠানই নন-এমপিওভুক্ত।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে এমপিওভুক্ত তিন প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে। এগুলো হলো সিংড়ার কলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বড়াইগ্রামের কুমারখালী দাখিল মাদ্রাসা এবং বাগাতিপাড়ার চিথলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের টেকনিক্যাল শাখা। এসব প্রতিষ্ঠান থেকেও এবার কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

শূন্য পাসের এমন ফলাফলে হতাশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের প্রত্যাশা ছিল, ভালো ফল না হলেও অন্তত শিক্ষার্থীরা পাস করবে।

অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীরা বলছেন, এমন ফলাফল হবে, আমরা ভাবতেই পারিনি। এ প্লাস না পেলেও অন্তত পাস করার আশা ছিল।

অন্যদিকে শিক্ষকরা বলছেন, কারিগরি শিক্ষায় অনেক সময় তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকা এবং অভিভাবকদের অসহযোগিতাও ফলাফলে প্রভাব ফেলে।

প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষকরা বলছেন, কারিগরি শিক্ষায় অনেক সময় দুর্বল শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। এরপরও অনেকে নিয়মিত ক্লাসে আসে না। অভিভাবক সমাবেশে ডাকলেও অনেকেই সাড়া দেন না। এটি আমাদের জন্যও দুর্ভাগ্যজনক।

তবে শিক্ষকদের এই বক্তব্য মানতে নারাজ অনেক অভিভাবক। তাদের অভিযোগ, সন্তানরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে গেলেও কাঙ্ক্ষিত মানের পাঠদান হয়নি। ফলে একসঙ্গে এত শিক্ষার্থী কেন অকৃতকার্য হলো, তা খতিয়ে দেখার দাবি তাদের।

অভিভাবকরা বলছেন, আমাদের সন্তানরা সারা বছর স্কুলে গেছে। কিন্তু একজনও পাস করল না। শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস করান কি না, প্রশাসন কীভাবে তদারকি করে এসব বিষয় তদন্ত করা দরকার।

এদিকে বাগাতিপাড়া পৌর মহিলা ও তমালতলা টেকনিক্যাল কলেজের এক কর্মচারী রহমান শেখের দাবি, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। সরকার আমাদের বেতন দেয় না। তাই নিয়মিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসেন না।

শূন্য পাস করা কয়েকটি মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

শিক্ষাবিদ ও স্থানীয়রা বলছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করা যেমন উদ্বেগের, তেমনি একাধিক প্রতিষ্ঠানে একই চিত্র আরও বড় প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি অর্থ ব্যয় হওয়ার পরও কেন একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারল না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয় যুবক রানা মাসুদ বলেন, এতগুলো প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। এর পেছনে কী কারণ, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

নাটোর জেলা শিক্ষা অফিসার রুস্তম আলী হেলালী বিডি২৪লাইভ'কে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ ফেল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে।