মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Friday, 28 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
28 August 2026
অন্যান্য

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের আলোচনা, বাড়ছে ভারতের উদ্বেগ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশকে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। একই সঙ্গে সৌদি আরব বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেই মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অবশ্য বৈঠকে মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে একটি চিঠি হস্তান্তর করেন হুমায়ুন কবির। দুই পক্ষ বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও জোরদারের বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

বৈঠকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে সৌদি আরবের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সৌদি কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের সৌদি আরবের উন্নয়নে অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি। এ সময় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান হুমায়ুন কবির।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সৌদি আরব বাংলাদেশকে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে কখন এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে ওই সূত্র কোনো তথ্য দেননি।

এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিটির আওতায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথা রয়েছে। এর মূল নীতি হলো—চুক্তির কোনো সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন সদস্যের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বাংলাদেশকে এই জোটে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে চুক্তিতে পাকিস্তান ও তুরস্কের অন্তর্ভুক্তি এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নয়াদিল্লির নজরে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের সম্পূর্ণ সার্বভৌম ও অভ্যন্তরীণ বিষয়। দেশের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’—এর সঙ্গে মক্কা চুক্তিতে যোগদানের সম্ভাবনা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকের মতে, পাকিস্তান এই চুক্তির অন্যতম সদস্য হওয়ায় বাংলাদেশ যোগ দিলে তা ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে ইসলামাবাদের দিকে বড় ধরনের ঝুঁকে পড়ার বার্তা দিতে পারে।

তবে বাংলাদেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।