29 August 2026
বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে ফরিদপুর শহরের শিক্ষার্থী ও পথচারীরা

ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে সার্কিট হাউজ ও পুলিশ লাইন্সের মধ্যবর্তী প্রায় ১৫০ মিটার সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ পথচারীরা।
সড়কটির এক পাশে রয়েছে ফরিদপুর সার্কিট হাউজের দ্বিতীয় প্রবেশপথ। জলাবদ্ধতার কারণে এ পথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সার্কিট হাউজে আসা অতিথিদের অনেক সময় প্রথম প্রবেশপথ ব্যবহার করতে হয়। একই সড়কের পাশে রয়েছে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় গেট। প্রধান সড়কের যানবাহনের চাপ এড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপদ চলাচলের সুবিধার্থে গেটটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়।
তবে বৃষ্টির পর সড়কটি পানিতে তলিয়ে গেলে দ্বিতীয় গেট দিয়ে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বাধ্য হয়ে প্রধান সড়কের গেট ব্যবহার করতে হয়। এতে প্রধান সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফরিদপুর জিলা স্কুল ও ফরিদপুর হাই স্কুলের শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। বৃষ্টির সময় দীর্ঘক্ষণ পানি জমে থাকায় পায়ে হেঁটে চলাচলেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।
ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ বিডি২৪লাইভকে বলেন, “এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
ফরিদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আলম বিডি২৪লাইভকে বলেন, “সার্কিট হাউজ ও পুলিশ লাইন্সের মধ্যবর্তী সড়কে জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ওই এলাকায় আগে ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই সীমিত ছিল। ইতোমধ্যে পুলিশ হাসপাতালসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি বিডি২৪লাইভকে বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখব এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিডি২৪লাইভকে বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। ফরিদপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পথচারীদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটির পানি নিষ্কাশনের টেকসই ও স্থায়ী ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
