মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Sunday, 30 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
29 August 2026
অন্যান্য

অতিরিক্ত জল পানেও বিপদ! জানুন কখন ‘স্বাস্থ্যকর অভ্যাস’ হয়ে উঠতে পারে ঝুঁকির কারণ

সুস্থ থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পর্যাপ্ত জল পান। মানবদেহের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজেই জলের ভূমিকা অপরিসীম। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম প্রক্রিয়া সচল রাখা, কোষে পুষ্টি পৌঁছে দেওয়া এবং বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার মতো নানা কাজে জল অপরিহার্য। তবে অনেকেই মনে করেন, যত বেশি জল পান করা যাবে ততই শরীরের জন্য উপকারী। চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সব সময় সঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জল পান করাও নানা ধরনের শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ওজন কমানো, শরীর ডিটক্স করা কিংবা ত্বক ভালো রাখার আশায় অনেকে অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত জল পান করেন, যা কখনও কখনও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

অতিরিক্ত জল কেন ক্ষতিকর?

অতিরিক্ত জল পান করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপোন্যাট্রেমিয়া (Hyponatremia)। যখন শরীরে জলের পরিমাণ বেশি হয়ে যায়, তখন রক্তে থাকা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানগুলো পাতলা হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরের কোষগুলো ফুলে যেতে শুরু করে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই প্রভাব মস্তিষ্কের কোষেও পড়তে পারে। তখন মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।

কিডনির ওপর বাড়তি চাপ

মানবদেহের কিডনি অতিরিক্ত জল ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণ জল পান করা হলে কিডনির জন্য সেই ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়।

ফলে কিডনির ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন অভ্যাস চলতে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক জল ও খনিজের ভারসাম্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রতিদিন কতটা জল প্রয়োজন?

এই প্রশ্নের একক কোনো উত্তর নেই। কারণ একজন মানুষের জলের চাহিদা নির্ভর করে তার বয়স, ওজন, দৈনন্দিন কাজের ধরন, খাদ্যাভ্যাস, আবহাওয়া এবং শারীরিক অবস্থার ওপর।

গরমের দিনে, বেশি পরিশ্রম করলে বা শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হলে স্বাভাবিকভাবেই জলের প্রয়োজন বাড়ে। অন্যদিকে শীতকাল বা কম শারীরিক পরিশ্রমের সময় সেই প্রয়োজন তুলনামূলক কম হতে পারে।

শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিন

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃষ্ণা না লাগলেও বারবার জোর করে প্রচুর জল পান করার অভ্যাস ঠিক নয়। বরং দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে জল পান করা বেশি উপকারী।

এ ছাড়া প্রস্রাবের রংও শরীরের জলীয় ভারসাম্য সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা দিতে পারে। স্বাভাবিকভাবে হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ রঙের প্রস্রাব শরীরে পর্যাপ্ত জলের ইঙ্গিত দেয়। তবে এটি একমাত্র নির্দেশক নয়।

জল আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু যে কোনো ভালো জিনিসের মতো এরও একটি ভারসাম্য রয়েছে। প্রয়োজনের চেয়ে কম জল যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত জলও শরীরের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই সুস্থ থাকার জন্য শুধু বেশি নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের চাহিদা বুঝে এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলেই জলের সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া সম্ভব।