মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Tuesday, 01 September 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
31 August 2026
অন্যান্য

চোখেমুখে বনদস্যু আতঙ্ক আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বনে যাচ্ছেন বনজীবীরা

দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ সোমবার ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে সুন্দরবনের সব প্রবেশপথ। জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মাছের প্রজনন মৌসুমে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ রাখে বনবিভাগ। নিষেধাজ্ঞা উঠতেই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলে এখন নৌকা মেরামত, জাল সেলাই আর ট্রলার প্রস্তুতি সম্পন্ন। তবে ঋণ শোধের স্বপ্নের পাশাপাশি বনজীবীদের চোখে-মুখে বনদস্যু আতঙ্ক।

ঋণ করে চলেছে সংসার সুন্দরবন বন্ধ থাকায় গত তিন মাসে উপকূলের হাজারো পরিবার আয়-রোজগারহীন হয়ে পড়ে। জেলে আবু হাসান আলী, আলী হোসেনসহ একাধিক জেলে বলেন, বন্ধের সময় সুদে টাকা আর মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাল-ডাল কিনেছি। ছেলে-মেয়ের স্কুলের বেতন, বাবা-মায়ের ওষুধ সবই ধার করে চলেছে। এখন আবার সুদ করেই নৌকা-জাল ঠিক করছি। দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ১টি নৌকা মেরামত ও জাল সংস্কার করতে ২০/২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এই টাকাও বেশিরভাগই মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া।

আয় করব নাকি চাঁদা দেব স্বপ্নের মাঝে বড় শঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে বনদস্যু। জেলেদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে সুন্দরবনে কয়েকটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিম সুন্দরবনে ৫টি দস্যুদল তান্ডব চালাচ্ছে। স্থানীয় জেলেদের দাবি, তিন মাস আগে বন খোলা থাকার সময়ও বনদস্যুদের ২৫/৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ‘স্লিপ’ নিয়ে বনে যেতে হয়েছে। "সরকার বারবার বনদস্যু নির্মূলের কথা বলে, কিন্তু মাঠে কোনো অভিযান দেখি না।

পর্যটন-ট্রলার সেক্টরেও ধস শুধু জেলে-বাওয়ালী নন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনও তিন মাসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। মুন্সীগঞ্জ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি কেএম আনিছুর রহমান জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জে পর্যটকের ওপর নির্ভর করে প্রায় শতাধিক ট্রলার ও নৌকা চলে। বন্ধের তিন মাসে চালক-মাঝি-বাবুর্চি সবাই বেকার। ধারদেনা করে সংসার চলেছে। পর্যটকের সংখ্যা বেশি হলে সবাই ঘুরে দাড়াতে পারবে।

অভয়ারণ্য নিয়ে জেলেদের নতুন দাবি জেলেদের আরেকটি বড় অভিযোগ, সুন্দরবনের প্রায় ৭০ ভাগ এলাকা সারাবছর অভয়ারণ্য হিসেবে বন্ধ। এই সুযোগে অসাধু চক্র অভয়ারণ্যে ঢুকে বিষ দিয়ে মাছ ধরে এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। বৈধ জেলেরা বাইরে বসে থাকি, আর চোরেরা ভেতরে লুট করে বলেন স্থানীয় এক বাওয়ালী। তাই তারা দাবি তুলেছেন, সুন্দরবনের অন্তত ৬০ ভাগ এলাকা নিয়ম মেনে মাছ-কাঁকড়া আহরণের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। এতে অবৈধ শিকারও কমবে।

বনবিভাগের প্রস্তুতি ও নির্দেশনা বনবিভাগ সূত্র জানায়, আজ সকাল থেকে পাস দেওয়া শুরু হবে। পাস নিয়ে জেলে-বাওয়ালী ও পর্যটকবাহী ট্রলার সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বিডি২৪লাইভকে জানান,সুন্দরবন শুধু জীববৈচিত্র্যের আধার নয়, এটি উপকূলের লাখো মানুষের জীবিকার উৎস। আজ থেকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব ফরেস্ট স্টেশনকে টহল জোরদার ও পাস প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে বন আইন ও নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ করছি।