মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Friday, 04 September 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
03 September 2026
অন্যান্য

কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের পর হত্যা: এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিয়া সুলতানা ইমু (১০) কে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে মো. জসিম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আব্দুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জসিম উদ্দিন বরুড়া উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে। আদালত সূত্রে ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, ঘটনার দুই দিন আগে নাদিয়া সুলতানা ইমু তার মায়ের খালা বাড়ি বরুড়া উপজেলার গজারিয়ায় বেড়াতে যায়। ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে নাদিয়াকে তাজু মিয়ার মুদি দোকানে পাঠানো হয়। কিন্তু দোকান থেকে বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করতে থাকেন। পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বরুড়া উপজেলার রাড়ী গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির উত্তর পাশে আব্দুল লতিফের বাঁশ বাগানে নাদিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। এ ঘটনায় নিহত ইমুর মা মঞ্জুমা বেগম (৪০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বরুড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ (২) ধারায় মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ মো. জসিম উদ্দিনকে শনাক্ত করে আটক করে। পরে তদন্তে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পর তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে এলে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায়ে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।