মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Monday, 07 September 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
06 September 2026
অন্যান্য

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের তারিখ আরো পেছাচ্ছে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ হতে পারে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বরের কথা জানা গেছে।

ইতোমধ্যে পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের খসড়া বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বুধবার রেজল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। পরে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সবশেষে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘গেজেট প্রকাশে কোনো বিলম্ব করতে চাই না। প্রক্রিয়াগত কারণে যতটুকু সময় লাগছে, সেটুকুই। আশা করছি, চলতি সপ্তাহেই হয়ে যাবে।’

এর আগে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা বলা হলেও প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা বেশি সময় লাগছে। পরে নতুন সময়সীমা হিসেবে ৬ সেপ্টেম্বরের কথা জানানো হয়। অর্থসচিবও জানিয়েছেন, ৬ সেপ্টেম্বর নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ফলে এখন বিজি প্রেস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর শেষ মুহূর্তের কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে।

এদিকে গত সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নতুন বেতন স্কেল অনুমোদনের পাশাপাশি এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সরকার একটি সচিব কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

বিস্তারিত পর্যালোচনার পর সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

অনুমোদিত জাতীয় বেতন স্কেল, ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন বেতন স্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।

এর ফলে নতুন বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়বে। আর সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন বাড়বে ১০০ শতাংশ।