09 September 2026
ইরান যুদ্ধে বড় ক্ষেপণাস্ত্র মজুত হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহৃত হওয়ায় দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে। বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় যুদ্ধের আগে থাকা মজুত পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস।
প্রতিবেদনটির বরাত দিয়ে ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম পাঁচ মাসেই যুক্তরাষ্ট্র তার উন্নত প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করেছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (CSIS) হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর সময় বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০টি। জুলাইয়ের শেষ নাগাদ তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ১০০টিতে।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে যুদ্ধকালীন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হারের বড় ব্যবধানও স্পষ্ট হয়েছে। একই হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে মার্কিন কারখানাগুলো বছরে প্রায় ৬২০টি প্যাট্রিয়ট ও ৯৬টি থাড ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করত। ফলে যুদ্ধ চলাকালে ব্যবহৃত বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত পুনরায় মজুত করা সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগের পর্যায়ে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফিরিয়ে নিতে অন্তত কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে সময় লাগবে আরও বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় মজুত করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশটির কৌশলগত প্রতিরোধক্ষমতাও সরাসরি জড়িত। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রকে একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।
ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পরিকল্পনায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন এবং ইউরোপে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যবহৃত প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবিষ্যৎ কোনো সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা মজুত থেকে কমে গেছে।
এ ছাড়া যুদ্ধের সময় ব্যয়বহুল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে এ ধরনের অসম ব্যয়ের কারণে প্রতিরক্ষাকারী পক্ষের অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত কমে যেতে পারে।
ইরান যুদ্ধ তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শুধু আর্থিক ব্যয় বা যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের হিসাব নয়; এর প্রভাব পড়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প, সরবরাহব্যবস্থা, অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতির ওপরও।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষ হলেও এর সামরিক ব্যয় দ্রুত শেষ হয় না। ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত, নতুন অস্ত্র উৎপাদন এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর প্রস্তুতি বজায় রাখতে কয়েক বছর ধরে এর প্রভাব বহন করতে হতে পারে ওয়াশিংটনকে।
ফলে ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রকে এখন একদিকে ক্ষয় হওয়া অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে, অন্যদিকে চীন বা রাশিয়াকে ঘিরে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতিও ধরে রাখতে হবে।
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলোর একটি হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগতভাবে একাধিক বড় সংকটে একই সময়ে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা কমে যাওয়া।
