11 September 2026
বান্দরবানের লামায় শিকলবন্দি আট হাতি: চলছে অমানবিক নির্যাতন

স্বাধীনতা কী, মুক্তির আনন্দ কেমন—তা যেন ভুলেই গেছে পোষা হাতি ‘বাহাদুর’। বছরের পর বছর পায়ে লোহার শিকল বাঁধা অবস্থায় কাটছে তার জীবন। ৩৮ বছর বয়সী এই হাতিটি গত ২৪ বছর ধরে গহীন পাহাড়ে ভারী গাছ টেনে জীবিকা নির্বাহ করছে। এত পরিশ্রমের পরেও জোটে না পর্যাপ্ত খাবার। সারাদিন গাছ টেনে ক্লান্ত হওয়ার পর শিকল বাঁধা অবস্থায় আশপাশের লতাপাতা খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছে সে। লামা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্গম ঘিলাপাড়া এলাকায় গেলে এমন করুণ দৃশ্য চোখে পড়ে।
শুধু বাহাদুর নয়, বান্দরবানের লামা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় এমন আরও সাতটি হাতির সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে ঘিলাপাড়ায় একটি, দোছড়িতে দুটি, চিউনী খালের আগায় একটি, রূপসীপাড়া ইউনিয়নের লামা খালের আগায় দুটি এবং সরই ইউনিয়নের লেমুপালং ও লুলাইং এলাকায় দুটি হাতি রয়েছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও মালিকপক্ষের অমানবিকতায় হাতিগুলো শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় শিকলবন্দি থাকায় বাহাদুর মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাতির মাহুত সিফার জানান, দৈনিক ছয় হাজার টাকা ভাড়ায় হাতিটিকে গাছ টানার কাজে ব্যবহার করা হয়। হাতিটির মালিকের বাড়ি সিলেটে এবং সিলেট বন বিভাগ থেকে এর লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে। তবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলাকা ছেড়ে কেন লামার দুর্গম পাহাড়ে হাতি দিয়ে গাছ টানা হচ্ছে, সে বিষয়ে মাহুত কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় গাছ টানতে গিয়ে অনেক সময় হাতি মারাও যায়। গত বছর পাহাড় থেকে পড়ে একটি হাতি গুরুতর আহত হলেও কোনো চিকিৎসা না পেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়। এছাড়া হাতির মাধ্যমে জুম চাষের ক্ষতি করার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী হাতির মাধ্যমে টানা গাছ জোত ব্যবসায়ী বাবুলের কাছে বিক্রি করেন, যা পরে রূপসীপাড়ার ডিপো হয়ে পাচার হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, লামার বন থেকে হাতির মাধ্যমে শত শত মাতৃবৃক্ষ ও বনজ ঔষধি গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে। এসব গাছ পরিবহনের জন্য পাহাড় কেটে ও ঝিরির পানি প্রবাহ বন্ধ করে ৩০ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফজুর রহমান বলেন, ‘দুই বছর আগে হাতি ও মাহুতকে আটক করে বন আদালতে মামলা দেওয়া হয়েছিল। সে সময় হাতিটিকে চকরিয়ার ডুলহাজারা সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে যেসব এলাকায় হাতি রয়েছে, সেখানে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
