মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Sunday, 13 September 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
12 September 2026
অন্যান্য

দুই বছর পর তিতাসে নৌকা বাইচ, জিতল শাপলা ভয়েস ক্লাব

দুই বছর বিরতির পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে ফিরল গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। ভাদ্রের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে নদীর দুই তীরে জড়ো হন অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। মাঝিদের বৈঠার ছন্দ, ভাটিয়ালি গানের সুর আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে দিনভর উৎসবের আমেজ বিরাজ করে তিতাসপাড়ে।

শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিতাস নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্ট থেকে শুরু হয় এ নৌকা বাইচ। প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৌর এলাকার মেড্ডা সরকারি শিশু পরিবার এলাকায় গিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ হয়।

প্রতিযোগিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, নবীনগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার মোট ১০টি নৌকা অংশ নেয়। বিভিন্ন ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে চারটি নৌকা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।

বিকেল সাড়ে ৩টায় বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

উদ্বোধনের পর রং-বেরঙের পোশাকে সাজানো নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামেন মাঝিরা। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মাঝিদের ভাটিয়ালি গান এবং বৈঠার ছলাত ছলাত শব্দে মুখর হয়ে ওঠে তিতাসের বুক। দুই তীরের দর্শকরাও মাঝিদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান—‘মারো টান, হেইয়ারে হেইয়াহো’।

দীর্ঘ দুই বছর পর আয়োজিত এ নৌকা বাইচ ঘিরে নদীর দুই পাড়ে ছিল উৎসবের আবহ। কেউ নদীর ঘাটে, কেউ ভবনের ছাদে, আবার কেউ নৌযানে বসে উপভোগ করেন প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চকর মুহূর্ত।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের শাপলা ভয়েস ক্লাব। বিজয়ী দলকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় দুই লাখ টাকা।

দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সদর উপজেলার দারমা গ্রামের নৌকা। তারা পায় দেড় লাখ টাকা। তৃতীয় স্থান অর্জন করে নবীনগরের পুইল যুব সংঘ, তাদের দেওয়া হয় এক লাখ টাকা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক দলকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও ট্রফি দেওয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমানা আক্তার এবং চিকিৎসক মো. আব্দুল মতিন।

দুই বছর পর তিতাসের বুকে নৌকা বাইচকে ঘিরে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করেছে—গ্রাম-বাংলার এই ঐতিহ্য এখনও মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে জায়গা করে আছে।