মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Monday, 14 September 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
14 September 2026
অন্যান্য

বাংলাদেশ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য ফোরামের আত্মপ্রকাশ

‘বিভেদ নয় ঐক্য’- এই মূলনীতিকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য ফোরাম’। গতকাল শনিবার ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলনিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক এই ফোরামের আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের আহ্বায়ক সুরঞ্জন ঘোষ। লিখিত বক্তব্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মত্যাগ, দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে গুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়া এম ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ সব ভুক্তভোগী এবং পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। একই সাথে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অবিচল সাহসের কথা বিশেষ মর্যাদার সাথে স্মরণ করা হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে যারা বেড়ে উঠেছেন, তারা যে ধর্মেরই হোক সবাই বাংলাদেশি। একটি মহল বিশেষ ধর্মাবলম্বী বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীকে 'সংখ্যালঘু' তকমা দিয়ে জাতীয় মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন ও কোণঠাসা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই ধরনের বিভাজনমূলক অপপ্রচার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সংবিধানের সাম্য ও মানবিক মর্যাদার নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই ফোরাম প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলা হয়, কোনো বিশেষ ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে ‘সংখ্যালঘু’ তকমা দিয়ে বিভক্ত বা কোণঠাসা করার অপচেষ্টা সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ধর্মীয় পরিচয় কখনো নাগরিক অধিকারের মানদণ্ড হতে পারে না উল্লেখ করে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুযোগ সুনিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটি তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা হিসেবে ধর্মীয় উসকানি, গুজব ও বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার চিহ্নিতকরণ, সত্যতা যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশ, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আইনি ও সামাজিক সহায়তা প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। শেষে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও গ্রামপর্যায়ের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও বিহারে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।