14 September 2026
অভিভাবকহীন শ্যামনগর: নৈতিক স্খলনের দায়ে কোণঠাসা এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

সাতক্ষীরা-০৪ (শ্যামনগর) আসনের প্রায় চার লাখ মানুষ বর্তমানে এক প্রকার অভিভাবকহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী ডা. মনিরুজ্জামানকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম। প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতাকে অভিভাবক হিসেবে পেয়ে উপকূলীয় জনপদের মানুষ উন্নয়নের স্বপ্ন দেখলেও বর্তমানে তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও বিশেষ কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় আশার আলো ছড়িয়েছিলেন।
তবে নির্বাচনী প্রচারণায় নারী অধিকার, ইসলামী শাসনতন্ত্র কায়েম ও ইনসাফের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই নৈতিক স্খলনের অভিযোগে অভিযুক্ত হন গাজী নজরুল ইসলাম। গত ২০ জুলাই ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেল কক্ষে এক তরুণীসহ স্থানীয়দের হাতে আটক হন তিনি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও বিশেষ কমিটি থেকে তার সদস্যপদ বাতিল করা হয়। দল ও সংসদীয় কমিটি থেকে বহিষ্কৃত হলেও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে।
মগবাজারের ঘটনার পর থেকে জাতীয় সংসদে তার উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ভোট দেননি। সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত থাকলেও তাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে।
একজন সংসদ সদস্যের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও নিষ্ক্রিয়তায় শ্যামনগরের উন্নয়ন নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উপজেলাটির প্রায় ১৪৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৫০ কিলোমিটারই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা, জরাজীর্ণ স্বাস্থ্যসেবা ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো অসংখ্য খাতে উন্নয়নের প্রয়োজন থাকলেও জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
নিজের অপরাধ ও নৈতিক স্খলনের দায় নিয়ে আত্মগোপনে থাকা এই সংসদ সদস্যের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সরকারি দপ্তরগুলোতে তার গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব কমে যাওয়ায় শ্যামনগরের চার লাখ মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সুন্দরবন সংলগ্ন এই জনপদের মানুষ এখন কেবলই ভাবছেন, অভিভাবকহীন শ্যামনগরের ভবিষ্যৎ কী? তিনি কি সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উন্নয়নের পথে ফিরবেন, নাকি নিজেকে লুকিয়ে রেখে জনপদটিকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দেবেন—এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন স্থানীয়রা।
