17 September 2026
পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষিকার বিরূদ্ধে আর্থিক অনিয়ম সহ এলাকাবাসীর যত অভিযোগ

পঞ্চগড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরূদ্ধে আর্থিক অনিয়ম দূর্বল ছাত্রদের ছাড়পত্র দেওয়া এবং জবাব চাইতে গিয়ে সংশ্লিস্টদের সাথে অশালীন আচরন সহ সম্প্রতি নানা অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসীরা। এছাড়াও সাংবাদিকদের কাছে বিদ্যালয়টির সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। এতে করে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে অভিভাবক ভূক্তভোগীরা, সেই সাথে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকার এমন কার্যকলাপে বিদ্যালয়টির সুনাম শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।
সংশ্লিস্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও বিষয়টি সুরাহা না হওয়া জনমনে নেতিবাচক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি পঞ্চগড় সদর উপজেলার যতনপুকরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মঞ্জুআরা বেগমের বিরূদ্ধে। এদিকে অভিযোগ উঠার পর গত ২৮জুলাই প্রধান শিক্ষিকা মঞ্জুআরা বেগমের বিরূদ্ধে লিখিত গণ অভিযোগ পঞ্চগড় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী মিয়ার কাছে দেয় এলাকাবাসীরা ।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে অভিযোগের পর পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মোমিনুল ইসলাম জানান আগামি সাত দিনের মধ্যে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের তদন্ত না হওয়ায় আবারও পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কাছে গত ১১ আগস্ট তারিখে লিখিত গণ অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় সংশ্লিস্ট এলাকাবাসীরা। ওই অভিযোগে অভিভাবকের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরন,বিদ্যালয়ে নিয়মিত কার্যক্রমে অনিয়ম, নিয়মিত প্রাত্যাহিক সমাবেশ না হওয়া, জাতীয় পতাকার অবমাননা নিয়মবর্হিভূতভাবে ছাড়পত্র প্রদানের অভিযোগ করা হয়। বিদ্যালয়ের উন্নয়নে নিম্নগামী আচরন সরকারী অর্থ ব্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা জানান অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরূদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিযে দেখা হবে।
এদিকে যতনপুকুরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সাধারন সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান আমি দায়িত্বে থাকাকালীন মঞ্জুয়ারা বেগম ম্যানেজিং কমিটির তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে সকল বরাদ্দের অর্থ ব্যায় করতেন । বিশেষ করে বিদ্যালয়ে ইলেক্ট্রিক সিলিং ফ্যান মেরামত ক্রয় বিভিন্ন জাতীয় দিবসের বরাদ্দে অনিয়ম খেলা সামগ্রি ক্রয়ে অনিয়ম করেছেন। বিশেষ করে তিনি দায়িত্বকালীন সময় কম দামে ফ্যান ক্রয় করে অতিরিক্ত ভাউচার তৈরি করে বিল উত্তোলন একই ভাবে ক্রিড়া সামগ্রী কম দামে ক্রয় করে বেশি দাম দিয়ে ভাউচার তৈরি করে সরকারী অর্থ লোপাট করেছেন মঞ্জুয়ারা বেগম। বিভিন্ন জাতীয় দিবসের ব্যায় নিয়েও প্রশ্ন তুলে সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন। মঞ্জুয়ারা বেগম বিদ্যালয়ে বেশিদিন দায়িত্ব পালন করলে বিদ্যালয়ের সুনাম নস্ট হবে।
অভিযোগের বিষয়ে যতনপুকুরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা জানান আসালে আমার স্বামীর ভাইয়ের সাথে ব্যাক্তিগত লেনদেন নিয়ে আমার বিরূদ্ধে একটি কুচক্রি মহল মিথ্যা অভিযোগ করেছেন । আমি আমার জায়গায় শতভাগ ঠিক রয়েছি। আমি কোন আর্থিক অনিয়ম করিনি অন্যায়ভাবে কোন ছাত্রকে ছাড়পত্র দেইনি।
