মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Thursday, 17 September 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
17 September 2026
অন্যান্য

পরীক্ষার সূচিতে টাইট স্পেস, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নতুন ভাবনায় ইসি

নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সময়ের ‘স্পেস’ খুবই কম পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ফলে পরীক্ষার সূচি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় ভোটের তারিখ নির্ধারণে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ ইসির উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় ২৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সানাউল্লাহ বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরীক্ষা থাকায় নির্বাচন আয়োজনের জন্য সময়ের ‘স্পেস’ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। আগে তো আমাকে স্লটটা পেতে হবে নির্বাচন করার জন্য। এবারে আমাদের স্পেশালিটি হচ্ছে, পুরো নভেম্বর এবং ডিসেম্বরজুড়ে হচ্ছে পরীক্ষা। পুরো অলমোস্ট খুবই গ্যাপ কম পাওয়া গেছে। আমরা দুটো জায়গায় ঢুকিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার দেখতে হবে আমাদের আজকে প্রাপ্ত উপাত্তের উপর ভিত্তি করে যেগুলো আদৌ সম্ভব কিনা।”

নির্বাচনের সময় নির্ধারণে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগও বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে এবারের বন্যার কারণে যে ইন্টারভেনশনগুলো হয়েছে, সেটার জন্য প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে যে প্রভাবটা পড়েছে, তারা এখনো এটা কাটিয়ে উঠছেন। পাশাপাশি এখানে উনারা কতগুলো অনুরোধ আমাদেরকে করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যাতে করে পরীক্ষাগুলো ব্যাহত না হয়।”

নির্বাচনের কাজে শিক্ষকদের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে বলে জানান সানাউল্লাহ। তিনি জানান,আমাদের একজন শিক্ষককে অন্ততপক্ষে এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজন হয় প্রশিক্ষণ সমন্বয় এবং ডিউটির জন্য। কিন্তু তারা যেন তাদের মূল্যায়নের কাজটা করতে পারেন, প্রাক প্রস্তুতির কাজগুলো করতে পারেন। প্লাস পরীক্ষা যেন ব্যাহত না হয়।

নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরীক্ষার কারণে সময় সংকট থাকলেও জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন,“আমরা জানুয়ারিতে ফাঁকা সময় পাচ্ছি কিছুটা এবং আপনারা এটাও জানেন যে সাত বা ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে আবার রোজা শুরু। রোজা শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পর থেকে আবার এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এসএসসি শুরু শেষে আবার গিয়ে ওই জুন মাসের ৬ তারিখে এইচএসসি শুরুর মাঝখানে আবার একটা সময় পাওয়া যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, সব মিলিয়ে নির্বাচন আয়োজনের জন্য পাওয়া সময়ের পরিসর এবার খুবই সীমিত। আমাদের এবারে স্পেসগুলো খুব টাইট। তো এই টাইট স্পেসের মধ্যে কিভাবে আমরা সব অ্যাকোমোডেট করব এটা নিয়েই আরো একটু সাইডলাইন ওয়ার্ক করা দরকার আছে।

নির্বাচন শুরুর সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে আমাদেরকে এখন কথা বলতে হবে। আগে তো আমাকে স্লটটা পেতে হবে নির্বাচন করার জন্য।

সময় নির্ধারণের আগে আরও কিছু সমন্বয়ের কাজ করতে হবে জানিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, বাজেট পরিকল্পনাসহ এসব কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।

আমরা উপলব্ধি করেছি যে আরও দুই একটা বোধহয় সাইডলাইন ওয়ার্ক আমাদেরকে করতে হবে। সাইডলাইন কোঅর্ডিনেশনের কাজ আছে, ইনক্লুডিং আমাদের বাজেট প্ল্যানিং, সেটাও অতি শীঘ্রই আমরা সম্পন্ন করব। এগুলো সম্পন্ন করে আমরা যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট তারিখ আপনাদেরকে জানিয়ে দিব।

নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর আগের পরিকল্পনা থেকে ইসি সরে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, ওই সময়সূচি চূড়ান্ত ছিল না। আমি তিনটা শব্দ বলেছিলাম, ব্রিফিংয়ে বলেছিলাম, এটা একটা টেন্টেটিভ শিডিউল এবং বলেছিলাম এটা প্রাক প্রস্তুতিমূলক সভার আলোকে এটা প্রস্তুতকৃত এবং আমরা বলেছিলাম যে ১৭ তারিখের মিটিংয়ের পরে আমরা এটাকে চূড়ান্ত করব।

বৃহস্পতিবারের আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগের অবস্থান থেকে কমিশন সরে আসেনি। আপনারা যদি এটা খেয়াল করে থাকেন আমরা সামান্যতম কোনোখান থেকে সরে আসি নাই। সেটাই বলছি। আজকে আমরা আরও যে উপাত্ত পেয়েছি, এটার পরে চূড়ান্ত করব।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই এ নির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

“বাই-ইলেকশনে আমাদের ট্রুপস ডেপ্লয়মেন্ট হবে যেমনটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হয়েছিল, অনেকটা ওরকমই এবং এখানে আমরা সব ধরনের যে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলাম জাতীয় নির্বাচনে সেই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার হবে, পারতপক্ষে আরেকটু বেশি ব্যবহৃত হবে যাতে করে খুব সুন্দরভাবে নির্বাচনটা সম্পন্ন করা যায়। সুতরাং ওখানে সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল বাহিনী থাকবে।”