20 September 2026
নতুন পে-স্কেল: বকেয়া নিয়ে চলতি মাসের বেতনেই বড় সুখবর

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন পে স্কেল গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর গণ্য হবে। বকেয়া অর্থ চলতি সেপ্টেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গে দেওয়া হবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সাধারণ সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম পে স্কেল অনুমোদন করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন। এ হার চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির পুরো অংশ কার্যকর হবে। একই সময় থেকে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিও কার্যকর হবে।
এদিকে, অন্যান্য ভাতা ২০২৬ সালের ৩০ জুনে যে হারে দেওয়া হয়েছে, সেই হারেই ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। নতুন প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত ভাতার হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
পেনশনেও বড় পরিবর্তন
নতুন কাঠামোয় মাসিক সর্বনিম্ন পেনশন ১৮ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন ৯ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা ১৮ হাজার টাকা পাবেন।
নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা এর কম হলে ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি হলে ৫৫ শতাংশ হারে পেনশন বাড়বে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার
নতুন কাঠামোয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭২ হাজার টাকা। জ্যেষ্ঠ সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হবে এক লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
এ ছাড়া গ্রেড-১-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং গ্রেড-২০-এর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে।
বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেড ও বেতনভেদে মূল বেতনের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও নির্ধারিত পৌর এলাকায় এ হার কিছুটা কম রাখা হয়েছে।
চিকিৎসা ভাতায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কর্মরত চাকরিজীবীদের ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সে ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হবে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বয়সভেদে এ ভাতা ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
নববর্ষ ও শিক্ষা সহায়তা
সব সরকারি কর্মচারী আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। একই সুবিধা প্রযোজ্য হবে মাসিক নিট পেনশন গ্রহণকারী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও।
সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে শিক্ষা সহায়তা দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে এক হাজার টাকা পর্যন্ত এ সুবিধা পাওয়া যাবে। বয়সের সনদ অনুযায়ী ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের জন্য এ ভাতা প্রযোজ্য হবে।
এ ছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা এবং চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা দায়িত্ব ভাতার বিধান রাখা হয়েছে।
পদোন্নতি না হলেও উচ্চতর গ্রেড
নতুন পে স্কেলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন বিধান করা হয়েছে। কোনো পদে টানা আট বছর চাকরি করার পর পদোন্নতি না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রথমবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি করলে দ্বিতীয়বার এ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুবার এ সুবিধা নেওয়া যাবে।
২০১৫ সালের পর এবারই নতুন জাতীয় পে স্কেল চালু হলো। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন, পেনশন, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, টিফিনসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার নতুন কাঠামো এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে।
