21 September 2026
রাতের আঁধারে ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই করার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গী এলাকায় নির্মাণাধীন ব্রিজটির কাজ শুরু থেকেই অনেকাংশে রাতের বেলায় পরিচালিত হচ্ছিল। এতে সন্দেহ হলে এলাকাবাসী গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। একপর্যায়ে তারা দেখতে পান, ব্রিজের ঢালাই কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। পরে সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর অভিযোগ করেন, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোতে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
আরেক বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, দিনের পরিবর্তে রাতে নির্মাণকাজ পরিচালনা করায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ হতে দেখেন বলে দাবি করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, কিছু নির্দিষ্ট অংশে শাটারিং অপসারণে জটিলতা থাকায় বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি নির্মাণকাজের একটি কারিগরি প্রক্রিয়ার অংশ বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে প্রকল্পটি উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের আওতাধীন নয়; এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে দ্রুত একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
