21 September 2026
৪৮ ঘণ্টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই শিশুসহ তিন মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় দুই শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। জেলার আখাউড়া, নবীনগর ও নাসিরনগরে এসব মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে তিনটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আখাউড়ায় সীমান্তের ভারতীয় অংশ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ বছর বয়সী মো. শাকিলের মরদেহ। সে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাসার ওরফে মালু মিয়ার ছেলে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল শাকিল। শনিবার সন্ধ্যায় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে ভারতের লংকামোড়া এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শাকিলের বলে শনাক্ত করেন।
মরদেহটি ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ হয়। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে বিএসএফ মরদেহটি বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। তবে শাকিল কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছায় এবং তার মৃত্যুর কারণ কী—তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর একদিন পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নবীনগরের বিদ্যাকুট ইউনিয়নে নিখোঁজের প্রায় দুই দিন পর মিম (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মিমের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর সোমবার বিকেলে বিদ্যাকুট গ্রামের একটি পুকুরপাড়সংলগ্ন ঝোপে তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
অন্যদিকে, একই দিনে নাসিরনগর উপজেলার কলেজ মোড় এলাকার একটি কাশবন থেকে আরজান মিয়া (১৯) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার চিকনপুর গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে এবং অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পরিবারের ভাষ্য, রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে আরজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পরে সোমবার তার মরদেহ কাশবনের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের তথ্যমতে, আরজানের হাত ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো ছিল এবং শরীরের কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনাই পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। একই সময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও, এখন পর্যন্ত ঘটনাগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত করার মতো কোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।
