মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Tuesday, 22 September 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
21 September 2026
অন্যান্য

“একদিন গাড়ি চালালে তিনদিন যায় গায়ে ব্যাথা”

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রুদ্রগ্রাম-নবীগঞ্জ। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে নবীগঞ্জ শহরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটির ১০ কিলোমিটার অংশজুড়ে এখন বেহাল দশা। অধিকাংশ স্থান খানাখন্দ আর বড় গর্তে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হয়। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

উপজেলার পানিউমদা, গজনাইপুর, দেবপাড়া ও বাউসা ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। শাহ তাজ উদ্দিন কুরেশী (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয়, ধুলচাতল তাজিয়া মোবাশ্বীরিয়া আলিম মাদ্রাসা, দিনারপুর কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। তবে সড়কের বর্তমান অবস্থার কারণে যান চলাচল কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি সংস্কারে সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তা টেকসই হয়নি। সংস্কারের এক বছরের মাথায় সড়কটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে পাকার চিহ্ন পর্যন্ত হারিয়ে গেছে। আইনগাঁও, ভরপুর, চৌধুরী বাজার, বাউসা বাজার ও নাদামপুর মাদ্রাসা পয়েন্টসহ পুরো ১০ কিলোমিটার এলাকা এখন চলাচলের অনুপযোগী।

সিএনজি চালক মহসিন আলী বলেন, ‘এই সড়কে একদিন গাড়ি চালালে তিনদিন গায়ে ব্যথা থাকে, ব্যথানাশক ওষুধ খেতে হয়।’ দিনারপুর কলেজের অধ্যক্ষ তনুজ রায় জানান, নিম্নমানের কাজের কারণে সংস্কারের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সড়কটি ভাঙতে শুরু করে। এখন প্রতিটি গর্ত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। লাল সবুজ যুব সংঘের সভাপতি হুমায়ুন কবির আজিম জানান, সড়কটি সংস্কারের দাবিতে ইউএনও বরাবর অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী সাব্বির আহমদ বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন অনুমোদনের লক্ষ্যে হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ঢাকায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ শুরু করতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।