মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Wednesday, 23 September 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
22 September 2026
অন্যান্য

জাবিতে ছাত্র ইউনিয়ন আয়োজনে বিকল্প শক্তি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্র ইউনিয়ন আয়োজনে বিকল্প শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ১২৯ নম্বর কক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনীতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইমরান হাসান শুভ জানান বিশ্বের জ্বালানি ব্যবস্থার বড় অংশ এখনো তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো অ-নবায়নযোগ্য উৎসনির্ভর, যা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

'২০২৫ সালের হিসাবে বিশ্বে বছরে প্রায় ৩২,০০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। তাত্ত্বিকভাবে সূর্যের আলো থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এর একটি অংশই ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১,১৮,০০০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হলেও নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে মাত্র ৩–৫ শতাংশ। দেশে প্রায় ৪,৩১০ বর্গকিলোমিটার অনাবাদী বা পতিত জমি রয়েছে; এর একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা গেলে নবায়নযোগ্য শক্তির বড় সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব।

বাংলাদেশের নিজস্ব তেল ও খনিজ সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতা রয়েছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০–৬০ দিনের জ্বালানি মজুত থাকায় বৈশ্বিক সংকট, যুদ্ধ বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে হাসপাতাল, জরুরি সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকারখানা সচল রাখার জন্য পর্যাপ্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন শুভ।

আলোচনায় নবায়নযোগ্য শক্তি গবেষক মাহবুব সুমন বলেন, দেশে প্রায় ১৪০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে গ্যাস, কয়লা, তেল, সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করা হয়।

'বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত গ্যাস, কয়লা ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। মোট উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ গ্যাসভিত্তিক; এর পাশাপাশি কয়লা ও তেলনির্ভর কেন্দ্র এবং আমদানি করা বিদ্যুৎও রয়েছে। কিন্তু দেশের নিজস্ব গ্যাসের মজুত সীমিত ও ক্রমেই কমছে, অন্যদিকে কয়লা ও তেলের বড় অংশ আমদানিনির্ভর। ফলে একটি নির্দিষ্ট জ্বালানি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভারত, নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড গড়ে তুললে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি হতে পারে' বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, এখানে ‘পাওয়ার’ ও ‘এনার্জি’-এর পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো দেশে কত মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপিত আছে, শুধু সেটি দিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রকৃত অবদান বোঝা যায় না; সারা বছরে ওই উৎস থেকে মোট কত এনার্জি উৎপাদিত হচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করতে হয়। বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎসের সক্ষমতা বাড়লেও মোট এনার্জি মিক্সে তাদের অংশ এখনো তুলনামূলকভাবে খুব কম।

মাহবুব সুমন আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নবায়নযোগ্য শক্তি শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎসহ সম্ভাবনাময় উৎসগুলোকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক গ্রিড, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো ও শক্তি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাস, কয়লা ও আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এনার্জি মিক্স তৈরি করা প্রয়োজন। লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে একটি উৎসে সংকট তৈরি হলেও পুরো দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকিতে না পড়ে।'

এসময় জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অদ্রি অংকুর, সেক্রেটারি ফাইজান অর্কসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।