মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Thursday, 24 September 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
23 September 2026
অন্যান্য

ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রতারণা: কুয়াকাটায় রাসেলের এক বছরের কারাদণ্ড

নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে হোটেলে কক্ষ বুকিং, বিকাশের দোকান থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং সরকারি নিয়োগপত্র ও বিসিএস গেজেট জালিয়াতির অভিযোগে মো. রাসেল হাওলাদার (২৮) নামের এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুয়াকাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তাকে আটক ও এই সাজা প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল হাওলাদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রতাপ এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রতারণা করে আসছিলেন। সম্প্রতি কুয়াকাটায় এসে একই ভুয়া পরিচয়ে একটি হোটেলে কক্ষ বুক করেন তিনি। এছাড়া স্থানীয় একটি বিকাশের দোকানে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা ‘চার্জ’ (নগদ গ্রহণ) নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিয়ের ক্ষেত্রেও নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। তার দুটি স্ত্রী রয়েছে এবং প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকেও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, নিজের ভুয়া পরিচয়কে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতির আশ্রয় নেন রাসেল। ৪৪ তম বিসিএসের গেজেটে ২৩২ নম্বর ক্রমিকে থাকা ‘মো. রাসেল মিয়া’র নাম পরিবর্তন করে নিজের নাম ‘মো. রাসেল হাওলাদার’ বসিয়ে নেন তিনি।

একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়োগপত্রও তিনি জালিয়াতি করেছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে মহিপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ খানের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে জালিয়াতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাগজপত্র ও নথিপত্র জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক বলেন, “নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা একটি গুরুতর অপরাধ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।