24 September 2026
গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ: সিটি ব্যাংক কর্মকর্তার ২ বছর কারাদণ্ড

জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাতের মামলায় সিটি ব্যাংকের সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার ও অ্যাসোসিয়েট কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার শাহ মোহাম্মদ ছগীরকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, গ্রাহকের অজান্তে চেক চুরি ও জালিয়াতি করে ডেবিট কার্ড ইস্যুর মাধ্যমে ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে এ দণ্ড দিয়েছেন। আত্মসাৎ করা এই অর্থ জরিমানা করে ওই গ্রাহককে দিতে বলা হয়েছে রায়ে।
এছাড়া দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় তাকে আরও ২ (দুই) বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় দণ্ড একত্রে কার্যকর হবে।
মামলার এজাহার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার্জশিট থেকে জানা যায়, শাহানা বেগম নামের এক গ্রাহকের হিসাব থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রথমে একটি চেক পাতা (নম্বর- ৩২৫৩২৬) চুরি করেন। এরপর ওই চেকে গ্রাহকের জাল স্বাক্ষর দিয়ে ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট ব্যাংক থেকে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।
প্রতারণা শুধু চেকেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গ্রাহকের অজান্তে তার নামে একটি ডেবিট কার্ড ইস্যু করার জন্য যাবতীয় কাগজপত্র ও ফরমে গ্রাহকের জাল স্বাক্ষর দেন তিনি। পরবর্তীতে ওই কার্ড ও পিন নম্বর নিজের হস্তগত করে এটিএম থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৫ টাকা এবং পয়েন্ট অব সেলস মেশিনে ট্রানজেকশনের মাধ্যমে ১ লাখ ১২ হাজার ২৯০ টাকা তুলে নেন। সব মিলিয়ে তিনি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৫ টাকা আত্মসাৎ করেন।
গ্রাহক বিষয়টি বুঝতে পেরে ব্যাংকে অভিযোগ করলে অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি দি সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের লিগ্যাল ডিভিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে এম আইয়ুব উল্যা বাদী হয়ে চকবাজার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক নূরুল হুদা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।
২০২৫ সালের ১৮ মার্চ চার্জগঠন করা হয়। এরপর মামলার বিচার চলাকালে ১২ জনের মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৯ জন।
