25 September 2026
পাকিস্তান সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের যা বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, পর্যটন ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল দুই নেতার প্রথম সরাসরি বৈঠক। বৈঠক শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন শাহবাজ শরিফ।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পৃথক বিবৃতিতে বৈঠকের তথ্য জানানো হয়। এতে দুই পক্ষই ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ইতিবাচক গতি’ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানানো হয়েছে।
বৈঠক শেষে স্বল্প সময়ের জন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি ড. খলিলুর রহমান।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এশিয়া ওয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিকেরা তারেক রহমানের কাছে জানতে চান, তিনি কখন পাকিস্তান সফরে যাবেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি দিনক্ষণ ঠিক করব। আমরা সময়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিও শাহবাজ শরিফের কার্যালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান শাহবাজ। একই সঙ্গে জাতিসংঘের লক্ষ্য এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনের কথা জানান তিনি।
শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশের সঙ্গে ‘পারস্পরিকভাবে লাভজনক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার পাকিস্তানের দৃঢ় সংকল্প’ পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানও একই মনোভাব ব্যক্ত করেন এবং দুই দেশের সম্পর্কের ‘ইতিবাচক গতিপথে সন্তোষ’ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের সরকার দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় করেন। বহুপক্ষীয় ফোরামগুলোতে, বিশেষ করে জাতিসংঘে, দুই দেশের মধ্যে অব্যাহত সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন তারা।
বাংলাদেশের সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই প্রধানমন্ত্রী ‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো’ নিয়ে আলোচনা করেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের ওপরও তারা জোর দেন।
