25 September 2026
পরাজয়ে আসিয়ান কাপ শুরু বাংলাদেশের

র্যাংকিংয়ের পার্থক্যটা মাঠেও স্পষ্ট হলো। আসিয়ান কাপের শুরুতেই শক্তিশালী মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে গেল বাংলাদেশ। ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৮১ নম্বরে থাকা বাংলাদেশকে হারিয়ে ১৩৬ নম্বরে থাকা মালয়েশিয়া তুলে নিল সহজ জয়।
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে মালয়েশিয়া। একের পর এক আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন হামজা চৌধুরী, তারিক কাজীরা ও সতীর্থরা। ১৮ মিনিটে সেই চাপের ফল পায় মালয়েশিয়া। ডান দিক থেকে ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান আরিফ আয়মান।
৩৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সেই আয়মানই। ডি-বক্সের সামনে শাকিল আহাদ তপু বল ক্লিয়ার না করে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলে সুযোগ পেয়ে যান মালয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড। সহজেই শ্রাবণকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
বিরতির ঠিক আগে আরও একবার গোল হজম করতে পারত বাংলাদেশ। তবে ৪৪ মিনিটে দারুণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন শ্রাবণ। বিপরীতে প্রথমার্ধে মালয়েশিয়ার গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে আরও একবার গোল হজম করে বাংলাদেশ। ৫৩ মিনিটে বক্সের ভেতর বল পেয়ে দ্রুত শরীর ঘুরিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিং করেন আজই মালয়েশিয়ার জার্সিতে অভিষেক হওয়া ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকার বার্গসন। বল ঠেকাতে শ্রাবণ শুধু ঝাঁপিয়ে পড়ার সুযোগই পান।
৭৬ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন হামজা চৌধুরী। শাহরিয়ান ইমনের পাস থেকে ডি-বক্সে একা গোলরক্ষককে পেয়েও সরাসরি তার শরীর বরাবর শট নেন তিনি। ফিরতি বল থেকেও গোল করতে পারেননি হামজা। শেষ পর্যন্ত কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত হয় মালয়েশিয়া।
৮২ মিনিটে আরেকটি সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। ইমনের নেওয়া শটে শক্তির ঘাটতি থাকায় সহজেই তা ঠেকিয়ে দেন মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক। এক মিনিট পর অবশ্য বড় বিপদ থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ফারগাস তিয়ারনির জোরালো শট বারে লেগে ফিরে না এলে ব্যবধান ৪-০ হতে পারত।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে হামজা চৌধুরীর দল।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয়েছে ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতোফুসা ও জিদান ইউসুফের। তবে তিন প্রবাসী ফুটবলারই অভিষেকটা জয় দিয়ে রাঙাতে পারেননি।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের অষ্টম হার। দুই দলের ১১ দেখায় বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি, আর দুটি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে।
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ২৮ সেপ্টেম্বর, প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর।
