26 September 2026
গাজার কিশোরীর গল্পে পুরস্কার, ‘লা বোলা নেগ্রা’র বড় জয়ে শেষ টরন্টো উৎসব

আমিরুল ইসলাম: ১১ দিনের চলচ্চিত্রযজ্ঞ শেষে পর্দা নামল ৫১তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ)। এবারের আসরে দর্শকের ভোটে সর্বোচ্চ সম্মান পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে স্প্যানিশ চলচ্চিত্র ‘লা বোলা নেগ্রা’। অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর জীবন নিয়ে নির্মিত ‘থার্টিন ইন গাজা’ পেয়েছে নেটপ্যাক পুরস্কার।
ফিলিস্তিনি নির্মাতা হোসাম আবু দানের প্রথম কাহিনিচিত্র ‘থার্টিন ইন গাজা’। যুদ্ধের মধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়শিবিরে বাবার সঙ্গে বসবাস করা ১৩ বছর বয়সী রাঘাদকে ঘিরে এগিয়েছে সিনেমাটির গল্প। কৈশোরে প্রবেশের সময় তার শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের পাশাপাশি যুদ্ধ, নিরাপত্তাহীনতা এবং ব্যক্তিগত পরিসর হারিয়ে যাওয়ার বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে এতে।
৭৭ মিনিটের চলচ্চিত্রটি পুরোপুরি গাজায় স্থানীয় ফিলিস্তিনি শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে ধারণ করা হয়েছে। টরন্টো উৎসবের সেন্টারপিস বিভাগে এর বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।
নেটপ্যাক জুরির মতে, গাজার চলমান সংকটের মধ্যে মানুষের দুর্ভোগকে শুধু ভুক্তভোগিতার চিত্র হিসেবে উপস্থাপন না করে জীবনের জটিল বাস্তবতাকে শক্তিশালীভাবে পর্দায় এনেছে ‘থার্টিন ইন গাজা’। চলচ্চিত্রটিকে সাহসী ও জীবনঘনিষ্ঠ কাজ হিসেবেও অভিহিত করেছেন জুরিরা।
পুরস্কার পাওয়ার পর নির্মাতা হোসাম আবু দান জানান, গাজার মানুষের কণ্ঠ আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানো তাদের জন্য গভীর গর্বের বিষয়। অসংখ্য বেদনাদায়ক ঘটনার মধ্য থেকে একটি মানুষের গল্প বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারাকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
এবারের উৎসবের সবচেয়ে আলোচিত পুরস্কার পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড গেছে স্প্যানিশ চলচ্চিত্র ‘লা বোলা নেগ্রা’র ঝুলিতে। হাভিয়ের কালভো ও হাভিয়ের আমব্রোসি পরিচালিত সিনেমাটির গল্প বিস্তৃত ১৯৩২, ১৯৩৭ ও ২০১৭—এই তিনটি ভিন্ন সময়ে। স্পেনের তিন পুরুষের জীবন, ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা ও যন্ত্রণাকে একই সূত্রে যুক্ত করা হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে।
পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ডে প্রথম রানারআপ হয়েছে পিটার ফ্যারেলি পরিচালিত ‘আই প্লে রকি’। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে সিয়ান হেডারের ‘বিয়িং হিউম্যান’।
ভারতের জন্যও এবারের টরন্টো উৎসব ছিল উল্লেখযোগ্য। নাগাল্যান্ডের নির্মাতা থেজা রিও পরিচালিত ‘আং’ জিতেছে প্ল্যাটফর্ম প্রাইজ। ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাগাল্যান্ডের একটি গ্রামের শেষ জীবিত প্রধানকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। এর অধিকাংশ সংলাপ কোনিয়াক ভাষায়।
এবার প্রথমবারের মতো টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রাইজজয়ী অ-ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। তবে এ জন্য অ্যাকাডেমির অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে।
এ ছাড়া কানাডীয় নির্মাতা কোডি লাইটনিংয়ের ‘স্মাজ দ্য ব্লেডস’ পেয়েছে সেরা কানাডীয় ডিসকভারি পুরস্কার। সেরা কানাডীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হয়েছে সারভিল পোবলেতের ‘সানবার্ন’।
আন্তর্জাতিক পিপলস চয়েস পুরস্কার জিতেছে সাইমন স্টোনের ‘এলসিনোর’। প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে দর্শকের পছন্দের পুরস্কার পেয়েছে ব্যারি অ্যাভরিচের ‘ডার্লিন লাভ: আই নো হোয়ার আই’ভ বিন’। আর মিডনাইট ম্যাডনেস বিভাগে দর্শকের সেরা হয়েছে ম্যাথিউ র্যানকিনের ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন, ব্রায়ান মালরনি’।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের সংগঠন ফিপ্রেসির পুরস্কার পেয়েছে আইরিশ লেখক ও নির্মাতা ডেভিড টারপিনের ‘অ্যানসেস্টরস’।
১০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এবারের উৎসবে ১১ দিনে ৭২টি দেশের মোট ২৯৪টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। ৯৮টি লালগালিচা আয়োজনে অংশ নিয়েছেন আট শতাধিক শিল্পী ও চলচ্চিত্রকর্মী। উৎসবে স্বীকৃত গণমাধ্যমকর্মী ছিলেন প্রায় দুই হাজার এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশ নেন ২৭৯ জন পরিচালক।
সিনেমা প্রদর্শনী, তারকাদের লালগালিচায় উপস্থিতি এবং পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে রোববার শেষ হয় ৫১তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।
