মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Sunday, 27 September 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
26 September 2026
অন্যান্য

টরন্টো উৎসবে ইতিহাস ‘অ্যাং’-এর, অস্কারের পথেও নাগাল্যান্ডের সিনেমা

আমিরুল ইসলাম: ভারতের নাগাল্যান্ডের তরুণ নির্মাতা থেজা রিওর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অ্যাং’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় সাফল্য পেয়েছে। ৫১তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম প্রাইজ জিতে ২০২৭ সালের অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করেছে সিনেমাটি। 

৩১ বছর বয়সী থেজা রিও এর আগে ২০২১ সালে একই নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। সেই গল্পকেই বিস্তৃত করে এবার নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা বানিয়েছেন তিনি। টরন্টো উৎসবের প্ল্যাটফর্ম বিভাগে ‘অ্যাং’ ছিল একমাত্র ভারতীয় চলচ্চিত্র। 
পাঁচ সদস্যের আন্তর্জাতিক জুরির বিচারে সেরা হয়েছে সিনেমাটি। জুরি বিশেষভাবে এর নির্মাণদৃষ্টি, স্বতন্ত্র গল্প বলার ধরন এবং হারিয়ে যেতে থাকা একটি জনগোষ্ঠীর জগৎকে আবেগঘনভাবে তুলে ধরার প্রশংসা করেছে। 

‘অ্যাং’-এর গল্পের পটভূমি ১৯৬০-এর দশকের নাগাল্যান্ড। একটি প্রত্যন্ত কনিয়াক গ্রাম এবং সেখানকার প্রধান ও তার ছেলেকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে কাহিনি। তাদের পূর্বপুরুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের বিপরীতে দ্রুত বদলে যেতে থাকে চারপাশের পৃথিবী। একজন আমেরিকান মিশনারির আগমন সেই পরিবর্তনকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। 

গ্রামের মানুষ ধীরে ধীরে পুরোনো জীবন ছেড়ে নতুন বসতির দিকে চলে যেতে থাকে। পশ্চিমা পোশাক, চার্চ, ইংরেজি শিক্ষা ও নতুন ধর্মীয়-সামাজিক ব্যবস্থার প্রভাব বাড়তে থাকে। অথচ গ্রামের প্রধান আংবা, তার অসুস্থ স্ত্রী এবং বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে পুরোনো জীবন আঁকড়ে থাকেন। তাদের পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই নির্মাতা তুলে ধরেছেন পরিচয়, বিশ্বাস, ঐতিহ্য, স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের গল্প। 

কনিয়াক ভাষায় নির্মিত সিনেমাটি ১৬ মিলিমিটার ফিল্মে ধারণ করেছেন পোলিশ চিত্রগ্রাহক অ্যাডাম পিয়েতকিয়েভিচ। স্থানীয় নাগা শিল্পীদের পাশাপাশি এতে অভিনয় করেছেন বাফটা জয়ী স্কটিশ অভিনেতা ডগলাস হেনশল। স্থানীয় অভিনয়শিল্পীদের অনেকেরই এটি ক্যামেরার সামনে প্রথম কাজ। 

রিওর কাছে ‘অ্যাং’ শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়; নিজের জনগোষ্ঠীর পরিচয় ও হারিয়ে যেতে থাকা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও। চলচ্চিত্রটির শেষের উৎসর্গেও সেই বেদনার প্রতিফলন রয়েছে—নাগা জনগোষ্ঠীর যাত্রাপথে হারিয়ে যাওয়া সবকিছুর স্মৃতির প্রতি এটি উৎসর্গ করা হয়েছে। 

এবারের টিআইএফএফে প্ল্যাটফর্ম প্রাইজের গুরুত্ব আরও বেড়েছে নতুন অস্কার-যোগ্যতার নিয়মের কারণে। অ-ইংরেজি ভাষার কোনো চলচ্চিত্র এই পুরস্কার জিতলে সেটি অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে সরাসরি বিবেচনার যোগ্য হয়। ফলে ‘অ্যাং’ ২০২৭ সালের ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ওই বিভাগে যোগ্যতা পেয়েছে। তবে যোগ্যতা পাওয়া মানেই অস্কারের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া নয়—পরবর্তী অ্যাকাডেমি বাছাই প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হবে। 

ভারতের আনুষ্ঠানিক জমা দেওয়া চলচ্চিত্রের পথ অবশ্য আলাদা। ফলে ‘অ্যাং’-এর টিআইএফএফ পুরস্কার থেকে পাওয়া অস্কার-যোগ্যতাকে ভারতের সরকারি অস্কার নির্বাচন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।