মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Monday, 28 September 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
27 September 2026
অন্যান্য

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলকে আবারও আহ্বান জানাল সরকার

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আবারও আহ্বান জানিয়েছে সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিরোধী দল কমিটির আলোচনায় অংশ নিলে তাদের প্রস্তাব ও মতামতও সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে।

জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে রোববার কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত, প্রস্তাব ও পরামর্শ দেন।

বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা বারবারই বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়েছি। এখনো আহ্বান জানাই—তারা যখনই এই কমিটিতে যোগদান করবেন, আমরা স্বাগত জানাব। তাদের বক্তব্য ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।’

তিনি বলেন, বিরোধী দল আলোচনায় অংশ নিলে তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা ও সমন্বয় করা সম্ভব হবে। সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে বিভক্তি এড়িয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজটি সম্পন্ন করতে সরকার আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারব না। আমরা বারবার আহ্বান জানাতে পারি, আশা করতে পারি তারা এখানে অংশগ্রহণ করবে। আমরা চাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজটি করি এবং সংবিধান সংশোধনের আলোচনা করি।’

ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট

সংবিধান সংশোধনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য তারা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরপর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন করা হবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশনেই বিলটি আসতে পারে বলে জানান তিনি। ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে রিপোর্ট দেওয়ার লক্ষ্য কমিটির আগেই নির্ধারিত ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথমে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন হবে। বিলের ওপর আলোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব ও বিরোধিতার বিষয়গুলো সংসদীয় বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির পর সংশোধনী পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর যেসব সাংবিধানিক বিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রয়োজন রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

গণভোট নিয়ে ব্যাখ্যা

সাংবিধানিক গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ গণভোট ও সাংবিধানিক গণভোট এক বিষয় নয়। সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু বিধানে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আগে সংসদে সংশোধনী পাস হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের জন্য গণভোটের বিধান রয়েছে, সেগুলোতে গণভোট হবে। জনগণ পক্ষে ভোট দিলে এরপর রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করবেন।’

কোন কোন অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হবে, তা কমিটির আলোচনা এবং পরবর্তী সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলেও জানান তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদকে অগ্রাধিকার

কমিটির সভাপতি বলেন, তাদের কাজের প্রধান ভিত্তি জুলাই জাতীয় সনদ। তবে নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ তৈরির সময় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রায়োরিটি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। তবে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুসারে যেসব বিষয়ে আমরা ম্যান্ডেট পেয়েছি, সেগুলোও ধারণ করব।’

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও জনমত থেকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির উপযোগী বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা হবে। যেসব বিষয় সাধারণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব, সেগুলো আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টিও তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় এসব বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না এলেও নির্বাচনি অঙ্গীকারের কারণে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ তৈরির সময় বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।

সাংবাদিকদের মতামত বিবেচনা

বৈঠকে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের অধিকাংশই সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানান কমিটির সভাপতি। অনেকে লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়েও সাংবাদিকরা মতামত দিয়েছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এসব মতামত নিয়ে একটি প্রতিবেদন ও পুস্তিকা তৈরি করা হবে। তবে বিশেষ কমিটির মূল রিপোর্ট আলাদাভাবে থাকবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে তারা বিভিন্ন পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং বিরোধী দলকেও আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান অব্যাহত রাখবেন।