28 September 2026
পঞ্চগড়ে কোয়ার্টার ভাড়া দিয়েছিল বিদ্যালয়, এখন দখলে নিয়ে উল্টো হুমকি ভাড়াটিয়ার

পঞ্চগড় সদর উপজেলার কাজলদিঘী টুনিরহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন কোয়ার্টার ভাড়া দিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
৫ বছরের জন্য কোয়ার্টার ভাড়া নিলেও এখন নিজেই জমি মালিকানা দাবি করে দখলে নিয়েছেন ওই ভাড়াটিয়া। এনিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার মেলেনি বলছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আর জমি নিজের কেনা বলে দাবি সেই ভাড়াটিয়ার।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির টুনিরহাট বাজারের ভূমি অফিসের বিপরীতে ২.৭৫ শতক জমির উপর পুরাতন একটি কোয়ার্টার ছিল। সেখানে হাফ ওয়াল টিনের চালা, দুইরুম বিশিষ্ট একটি ঘর ও একটি রান্না ঘর ছিল। পূর্বে সেখানে বাইরে থেকে আসা শিক্ষকেরা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। তবে তারা অবসরে চলে যাবার পর থেকেই পরিত্যাক্ত ছিল কোয়ার্টার। পরে বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী এলাকার শাহ আলম (৫৫) নামে এক ব্যাক্তি টুনিরহাট বাজার এলাকায় বসবাসের জন্য বাড়ি ভাড়া খুঁজতে থাকেন। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার কাছে অগ্রীম ৫ হাজার টাকা জামানত নিয়ে ২০১০ সালের মে মাস থেকে ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত ৫ বছরের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা ভাড়ায় স্থাপনা অপরিবর্তিত করার শর্তে কোয়ার্টারটি ভাড়া দেয়া হয়। বলা হয় ভাড়ার টাকা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক একাউন্টে জমা দিতে হবে। বর্তমানে ওই কোয়ার্টার ভাড়া নিয়ে এখন নিজেই মালিক সেজেছেন শাহ আলম। চুক্তির পরে তিনি কোন ধরনের ভাড়া প্রদান করছেন না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। পরে স্থানীয় মাসুদ রানা নামে এক ব্যাক্তির কাছে দেড় শতক জমি কিনে নেন শাহ আলম। পরে বিদ্যালয়ের জমি সহ মোট ৬ শতক জমি দখলে নেন তিনি। টুনিরহাট হাড়িভাসা সড়কের পাশে ওই জমিতে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান করছেন শাহ আলম। তবে তিনি পুরো জমি নিজের কেনা দাবি করছেন।
এ নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করলে তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহন মিনজীকে ঘটনাস্থলে পাঠান। পরে তিনি সরেজমিনে গিয়ে জমির মালিকানা সত্যতা যাচাই করে বিদ্যালয়ের জমি ছাড়তে শাহ আলমকে নির্দেশ প্রদান করেন। তবে বিদ্যালয়ের জমি দখল মুক্ত করতে শাহ আলমকে কিছু বলতে গেলেই উল্টো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠানের দখল হওয়া জমি উদ্ধারে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ স্থানীয়রা। জাহিদ হাসান প্রধান জনি নামে বিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন ছাত্র বলেন, এই বিদ্যালয়ে আমার দাদা জমি দান করেছেন। তারাই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন। পরে বিদ্যালয়ের পুরাতন কোয়ার্টারে শাহ আলমকে ভাড়া দিয়ে বিদ্যালয় এখন বিপাকে পড়েছে।
২০১৭ সালে আবার বিদ্যালয় আমাকে দেড় শতক ও আরেকজনকে দেড়শতক জমি লিজ দেয়। কিন্তু শাহ আলম এখনো জমি না ছেড়ে দেয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। সে ভাড়া তো দিচ্ছেই না উল্টো দখল করে বসে আছে। এখন আমরাও লিজ নিয়েও কোন স্থাপনা করতে পারছিনা। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। জমি উদ্ধারে সরকার যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কাজলদিঘী টুনিরহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদ আলী শাহ বলেন, বিদ্যালয়ের ওই জমি উদ্ধারে গেলেও কোন সুফল মেলেনি। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি। জমিতে গেলেই শাহ আলম এমন আক্রমনাত্মক আচরণ করছেন, হুমকি দিচ্ছেন আমরা সেখানে ভয়ে যেতে পারছিনা। নিজেদের তো মান সম্মান বলে কথা আছে। তাকে ৫ বছরের জন্য ভাড়া দিয়ে এখন সে জমির মালিক। আমরা ২০১৭ সালে আরো দুইজনকে জমিটি দোকানঘরের জন্য ভাড়া দিয়েছি। কিন্তু কেউই সেখানে যেতে পারছেনা। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমাদের জমি আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক। সরকারের কাছে আমাদের এটাই অনুরোধ। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে শাহ আলম বলেন, জমিটি আমি মুল মালিকদের কাছে কিনেছি। আমি কোন জমি দখল করিনি। আমার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে। কিন্তু দুইদিন পরপর লোকজন এসে আমাকে বিরক্ত করছে জমি দাবি করছে বিদ্যালয়। আমি এখানে একটা দোকান করে খাই। এখন আমাকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি কাগজপত্র নিয়ে শিক্ষা অফিস কিংবা আমার দপ্তরে আসেন তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
