মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Tuesday, 29 September 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
28 September 2026
অন্যান্য

দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদের রিট

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই প্রেস ব্রিফিং করে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’—এমন বক্তব্য দেওয়া এবং তা গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

একই সঙ্গে অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বিরত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন আসিফ মাহমুদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা।

রিট আবেদনে গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের দেওয়া প্রেস ব্রিফিংকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিচারাধীন বা অনুসন্ধানাধীন বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা এবং ইতোমধ্যে প্রচারিত বক্তব্য সমগুরুত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা এ রিটের নম্বর ১৩৮৮৫/২০২৬। এতে দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) এবং সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা)কে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিশনের এক উপপরিচালক জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আসিফ মাহমুদের রিটে দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী ‘প্রাথমিক সত্যতা’ অনুসন্ধানের শুরুতে নয়, বরং অনুসন্ধান শেষে প্রাপ্ত ফলাফলের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। তাই অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়ে এমন বক্তব্য দেওয়ার আইনগত এখতিয়ার দুদকের নেই।

আবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে দুদকের সচিব ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল বলে জানান। তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট কোনো প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি বলে রিটে দাবি করা হয়।

এরপর ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। বরং ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করা হয়। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ আরও কিছু অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়।

রিটে এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও অসত্য’ বলে দাবি করেছেন আসিফ মাহমুদ। তার আবেদনে বলা হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মন্ত্রণালয়ের আদেশের মাধ্যমে হয়েছে।

এছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়টিও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ওই পদোন্নতি কার্যকর হয় ২০২৬ সালের ১১ মে, অথচ আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। ফলে ওই পদোন্নতির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নই ওঠে না বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনার উদ্দেশ্যে এসব প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। তার দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার এবং ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর পরিপন্থি।

রিটে এসব প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে অনুসন্ধান বা তদন্তাধীন বিষয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।