মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Thursday, 01 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
30 September 2026
অন্যান্য

হাদির নাম মুছে আগের নামেই ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেটে আবারও আগের নামফলক ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামফলক সরিয়ে সেখানে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখা হবে। তবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম না রাখার দাবি জানিয়েছেন হল সংসদের ভিপি মো. মুসলিমুর রহমান।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হলের গেট থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে ফেলা হয়।

এ বিষয়ে হল সংসদের ভিপি মো. মুসলিমুর রহমান বলেন, হল সংসদকে না জানিয়েই নামটি মুছে ফেলা হয়েছে। হল সংসদ এই জায়গায় ইনফর্মড না। আমি ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি যে নাম মোছার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশাসন বা অন্য কোথাও থেকে আমি কোনো ইনফরমেশন পাইনি।’

তিনি জানান, এ বিষয়ে হলের প্রভোস্টকে ফোন দিয়েছিলেন। তবে তাকে পাওয়া যায়নি।

কারা নামটি মুছে ফেলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মুসলিমুর রহমান বলেন, আমার মনে হচ্ছে, এর পেছনে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ রয়েছে। হয়তো ছাত্রদল এ বিষয়ে বারবার দাবি জানাচ্ছে। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন নামটি মুছে ফেলার ব্যবস্থা করছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন মনে করছে, তাদের অফিসিয়াল নাম যেটা আছে, সেটা থাকাটা যৌক্তিক। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা সেটা লেখার ব্যবস্থা করতে পারে।’

হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে হল সংসদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হল সংসদের অবস্থান হচ্ছে; আমরা শেখ মুজিবের নাম পরিবর্তনের পক্ষে। তার নাম পরিবর্তন হয়ে সেটা ওসমান হাদী হোক কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে হোক, সমস্যা নাই। আমরা পরিবর্তনের পক্ষে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হল ফ্যাসিস্টের নামে না থাকুক। বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু আমাদের দাবিটা এখনও অধিকতর বিবেচনার জন্য রেখে দিয়েছে, আমরা দাবি জানাব, যত দ্রুত সম্ভব এটার একটা সুরাহা হোক। গত সিনেট সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অধিকতর বিবেচনার জন্য বিষয়টি আবার সিন্ডিকেটে পাঠানো হয়েছে।

‘শহীদ ওসমান হাদি’ নামকরণের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুসলিমুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হলের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৮০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত একটি স্মারকলিপি তৎকালীন উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয়। নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন (ইসরাফিল প্রাং রতন) বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেটে হাদির নাম লেখা ছিল। সেটি মুছে ফেলা হচ্ছে এমন সংবাদ আমিও পেয়েছি। এখন নতুন কোনো নাম দেওয়া হবে কি না, সেটা আমার জানা নেই। আমি মাত্র শুনলাম।

তিনি বলেন, মূল বিষয় হচ্ছে, এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে আমিও জানি না। আমরা বিষয়টি নিয়ে কিছুই জানি না। আমি প্রথমে সংশ্লিষ্ট স্যারকে কয়েকবার কল দিয়েছি। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।”