মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Sunday, 04 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
03 October 2026
অন্যান্য

মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাত ও কর্মসংস্থানই অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থমন্ত্রী

মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে জিডিপির অনুপাতে কম কর আদায়, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোকে দেশের অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ তৈরি করেছে। প্রয়োজনের তুলনায় জিডিপির অনুপাতে কর আদায়ও অনেক কম। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনা, কর ব্যবস্থাকে ন্যায্য, সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ ফল নিশ্চিত করা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এক দিনে সব ঠিক হবে না, কিন্তু এই লক্ষ্যে আমরা অবিচল থাকব।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে, গত দশকের তুলনায় অর্থায়নের খরচ বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ ও শুল্ক-বাধা বাড়ছে।

ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় অস্থির হয়ে আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিবছর অর্থনৈতিক ক্ষতির নতুন হিসাব যোগ করছে।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে বৈশ্বিক এসব ধাক্কার সরাসরি প্রভাব পড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব বাজারে পণ্যের দাম, টাকার বিনিময় হার এবং দেশের কারখানাগুলোর রপ্তানি আদেশে দেখা যায়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে আমাদের প্রতিটি দিনই সারপ্রাইজ এলিমেন্টের দিন। বাজেট তৈরি হয় এক অনুমানের ওপর—তারপর আসে জ্বালানির দামের ধাক্কা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বন্যা, কিংবা বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখি, অনিশ্চয়তাই এখন স্বাভাবিক অবস্থা। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর, অর্থায়নের খরচ গত দশকের তুলনায় বেশি, আর বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ ও শুল্ক-বাধা বাড়ছে। ভূরাজনৈতিক সংঘাত জ্বালানি ও পরিবহন খরচকে অস্থির করে রেখেছে, আর জলবায়ু পরিবর্তন প্রতি বছর ক্ষতির নতুন হিসাব যোগ করছে।’

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সময়সূচি যা-ই হোক, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অর্থনীতিকে প্রস্তুত করতে হবে।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি—সময়সূচি যাইহোক, আমাদের রপ্তানিকে বাণিজ্য-সুবিধার বদলে প্রতিযোগিতার শক্তিতে টিকে থাকতে শিখাবে। দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সমস্যা লুকিয়ে লাভ নেই; স্বীকার করলেই সমাধান শুরু হয়।

নীতিনির্ধারণে অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অসম্পূর্ণ তথ্য ও সীমিত সময়ের মধ্যেই জনগণের কাছে জবাবদিহি রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

ইকোনথনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাপের মধ্যে ভাবা, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান রক্ষা করার সক্ষমতা নীতিনির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে স্থিতিশীলতা, সুশাসন, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং জনগণের অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।