05 October 2026
দুদকের নতুন মামলায় ছেলেসহ গ্রেপ্তার শাজাহান খান

সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান এবং তার ছেলে মো. আসিবুর রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখার অভিযোগে করা মামলায় সোমবার (৫ অক্টোবর) তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদিন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবীরের আদালত এ আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশাহ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, শাজাহান খানের বিরুদ্ধে দুদকের আনা অভিযোগ সত্য নয়। মামলায় একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সেটি ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে কেনা এবং ওই ফ্ল্যাটের মূল্য ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
আইনজীবী আরও বলেন, শাজাহান খানের বৈধ সম্পদের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত ওই সম্পদের কর পরিশোধ করা হচ্ছে।
আদালতে হাজির করার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রসঙ্গে বলেন, ‘এনসিপিকে নিয়ে কী বলব, তারা জামায়াতের সঙ্গে মিশে জামায়াতে ইসলামী হয়ে গেছে।’
দুদকের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মণ্ডল বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন।
এজাহারে বলা হয়, আসিবুর রহমানের নামে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৭ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৭৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪৭ টাকা। এর বাইরে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫০১ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে এসব সম্পদ ও ব্যয়ের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস এবং দায়-দেনার হিসাব পর্যালোচনা করে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শাজাহান খান নৌপরিবহনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য থাকাকালে সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ছেলে আসিবুর রহমানকে এসব সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন।
তবে দুদকের আনা এসব অভিযোগ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
দুদকের অনুসন্ধানে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শাজাহান খান ও তার পরিবারের সম্পদ ও আয়সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। পরে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে মামলা করার সুপারিশ করা হলে দুদকের অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
