মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Tuesday, 06 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
06 October 2026
অন্যান্য

লালমনিরহাটে আলোচিত মিতু হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাটের স্ত্রীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার মামলায় স্বামী মো. আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আদালতের রায়ে আসামীকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে গলায় ফাঁসির রজ্জু ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার(৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামী উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণী ও এজাহার থেকে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর থানার গোকুন্ডা ইউনিয়নের গোকুন্ডা দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আতিকুল ইসলামের সাথে আনুমানিক দুই বছর আগে বিয়ে হয় মোছাঃ মিতু আক্তারের। তাঁদের ৫ মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে মিতুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আতিকুল।

গত ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে আতিকুল মিতুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরবর্তীতে কাজের উদ্দেশ্যে পাবনা যেতে চাইলে মিতু তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিকুল প্রথমে মিতুর মাথায় ও মুখে কিল-ঘুষি মারেন। পরে ঘরের উঠানে থাকা একটি শক্ত প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মিতুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন মিতু আক্তার। এরপর আতিকুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে মিতুর শিশু সন্তান আতিকা আক্তারের কান্নাকাটি শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে বিছানায় মিতুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে মিতুর বাবা মোঃ ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ আতিকুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এ রায়ের মাধ্যমে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। রায়ের বিরুদ্ধে আগামী ৭ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী। আদালতের রায়ে বাদীপক্ষও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।