মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Tuesday, 06 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
06 October 2026
অন্যান্য

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আহ্বান ঢাকার

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং অবৈধ অভিবাসনকে আরও উৎসাহিত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) চেয়ারপার্সন আফসানা বেগম এমপির নেতৃত্বে সফররত একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন হাউস অব কমন্সের সদস্য শওকত আদম এমপি এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কুরবান হোসেন।

বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু মানবিক সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অনিয়মিত অভিবাসন এবং বৃহত্তর স্থিতিশীলতার ওপরও পড়ছে।

তিনি বলেন, সংকট যত দীর্ঘায়িত হবে, এর বহুমাত্রিক ঝুঁকি তত বাড়বে। তাই রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমি মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

আগামীকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদলের। সফরকালে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দুর্দশা ও মানবিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার পাশাপাশি তাঁদের সহায়তায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিনিধিদলটি।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা এবং তাঁদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদারে এপিপিজির ধারাবাহিক আগ্রহের প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ ও সংস্কার কার্যক্রমে যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ সরকার এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে এপিপিজি ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ততা বাড়াতে এপিপিজির সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিময়, গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে উভয় পক্ষ মতামত বিনিময় করে। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ফোরামগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহও প্রকাশ করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদল।