মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Tuesday, 06 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
06 October 2026
অন্যান্য

পণ্যের দাম বাড়ায় নাহিদের স্ট্যাটাস, দায়ী করলেন যাদের

মাল্টা, পোলাওয়ের চাল, ডিম ও এলপিজি সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির জন্য অসাধু সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে পণ্যবাজারের অসাধু সিন্ডিকেট।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

পোস্টে মাল্টার দামের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি লেখেন, গত দুই মাস ধরে বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা প্রায় ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ আমদানির নথি অনুযায়ী, প্রতি কেজি মাল্টার ক্রয়মূল্য মাত্র ৮৭ টাকা। আমদানি শুল্ক, পরিবহন ব্যয় ও মুনাফা যোগ করার পরও প্রতি কেজির সর্বোচ্চ খরচ ২১০ টাকা হওয়ার কথা। সে হিসাবে খুচরা বাজারে মাল্টার দাম ২৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মাল্টার দাম বাড়ার পেছনে সরবরাহ–সংকটের কথা বলা হলেও আমদানির পরিসংখ্যান তা সমর্থন করে না বলেও উল্লেখ করেন নাহিদ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে দেশে অন্তত ২২ শতাংশ বেশি মাল্টা আমদানি হয়েছে। এরপরও বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত দুই মাসে অসাধু সিন্ডিকেট জনগণের কাছ থেকে কয়েক শ কোটি টাকা অতিরিক্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পোলাওয়ের চালের দাম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর দাবি, ১২০ টাকা দামের পোলাওয়ের চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। শুধু এই একটি পণ্য থেকেই গত তিন মাসে আনুমানিক দেড় হাজার কোটি টাকা ‘লোপাট’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডিমের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি ডজন ডিমের গড় দাম ছিল ১২০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির খাবারের দাম বাড়াকে কারণ হিসেবে দেখানো হলেও সেই ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব হিসাব করলে প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় এক টাকা বাড়ার কথা। অথচ বাস্তবে বেড়েছে প্রায় পাঁচ টাকা—এমন দাবি করেন তিনি।

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কয়েক দফা বাড়ানোর পরও বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত এক হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। দেশে এলপিজির আমদানি পর্যাপ্ত থাকার পরও অতিরিক্ত এই অর্থ প্রতিদিন কারা নিচ্ছে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের মতো দেশ আবারও সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজারের অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তাঁর অভিযোগ, পণ্যের আমদানি ব্যয় ও বাজারদরের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে। জনগণের ওপর বাড়তি মূল্যচাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।