মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Tuesday, 06 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
06 October 2026
অন্যান্য

ছিনতাইকারী-মাদকসেবীসহ ২৫ জন গ্রেপ্তার, হেফাজতে ১৭ কিশোর

কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে চারজনকে চোর-ছিনতাইকারী, সাতজনকে মাদকসেবী, সাতজনকে বিভিন্ন ধর্তব্য অপরাধের মামলার আসামি, ছয়জনকে ওয়ারেন্টভুক্ত এবং একজনকে নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবন ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটা থেকে ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা পর্যন্ত কক্সবাজার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চোর-ছিনতাইকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা চারজন হলেন আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (৩২), কায়সার আলম রিয়াদ (২৩), তৌহিদুল ইসলাম (২৬) ও লোকমান হাকিম ওরফে হাকিম (৩৫)।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরিফের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, মারধর ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় অন্তত ১০টি মামলার তথ্য দিয়েছে পুলিশ। কায়সার আলম রিয়াদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, চুরি ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা এবং লোকমান হাকিমের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা রয়েছে।

অভিযানে মাদকসেবী হিসেবে গ্রেপ্তার সাতজন হলেন- রুবেল (৩৬), আরিফা আক্তার (১৮), মুজিবুর রহমান (৩২), রাশেদ (১৯), হারুন আর রশিদ (৩০), মনির হোসেন সায়েম (৩৫) ও আপেল মাহমুদ (২৭)। এ ছাড়া ধর্তব্য অপরাধের অভিযোগে কুলসুমা (২২), রিয়াদ বাবু (২৭), আল মাহিন (১৯), সরোয়ার শাহিল (২৬), ইমন (২০), রাকিবুল হাসান (২৩) ও হাসেম (৩২) নামের সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মফিজুর রহমান (৩২), ইমরান, মোজাম্মেল হক, তৌহিদুল ইসলাম (২০), সাদেক হোসেন খোকা (৪৮) ও মনির আহমদ লিটনকে। এ ছাড়া নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো যাচাই করে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্য হেফাজতে অভিযানের সময় কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় ঘোরাফেরা করা কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিষয়ে পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাদিম আলী বলেন, ‘চুরি-ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতে সদর থানা এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান চলছে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। হেফাজতে নেওয়া কিশোরদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ওসি শেখ নাদিম আলী বলেন, কক্সবাজার শহরে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।