06 October 2026
শাহবাগ থানায় ঢাবি সাংবাদিকদের ওপর হামলা, পাঁচ মাস পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা

রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অবশেষে জমা পড়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় পাঁচ মাস পর তা জমা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি জানান।
উপাচার্য জানান, শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন মঙ্গলবার জমা হয়েছে। প্রতিবেদনটি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সিন্ডিকেটে পাঠানো হয়েছে। আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন বিকেলে উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সঙ্গে সাংবাদিক সমিতির প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈন মাহি বলেন, আমাদের ওপর হামলার প্রায় ৫ মাস পর আজকে আমরা দেখতে পেয়েছি যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আমরা ধারণা করছি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর দেশব্যাপী যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, সেই চাপের কারণেই হয়তোবা তদন্ত কমিটি এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
দীর্ঘ ৫ মাসেও কেন তদন্ত শেষ হয়নি সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, তদন্ত কমিটি একাধিক পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও সমন্বয়ের অজুহাত দিলেও আমরা মনে করি, প্রশাসনের সদিচ্ছা ও তৎপরতার অভাব ছিল। যদি প্রশাসন শুরুতেই তৎপর হতো, তবে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই বিচার সম্পন্ন হতে পারত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার দ্রুত হলে পরবর্তীতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা করার সাহস কেউ পেত না। তাই এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দায় এড়াতে পারে না।
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হন। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহকারী প্রক্টর মাহবুব কায়সারকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
