মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Friday, 23 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
07 October 2026
অন্যান্য

যশোরে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রতিবন্ধী হত্যার দায়ে মামলা, পুরুষ শূন্য গ্রাম

যশোরে গরু চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান ওরফে মস্তান সর্দারকে (৪০) পিটিয়ে হত্যার চৌগাছা থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই ছরোয়ার উদ্দিন বাদী হয়ে এ হত্যা মামলাটি দায়ের করেছেন। গত রাতে তিনি থানায় উপস্থিত হয়ে মামলটি করেন। এদিকে মামলা হওয়ার খবরে গ্রেফতার আতঙ্কে চৌগাছার বাঘারদাড়ি গ্রাম এখন পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত মস্তান সর্দার একজন মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি প্রায় সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ থাকতেন। এরপর কিছু দিন পরে বাড়িতে ফিরতেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে যান। এরপর ঘুরতে ঘুরতে চৌগাছায় চলে আসেন। যা পরিবারসহ এলাকাবাসি কেউ জানেন না।

গত ৫ অক্টোবর দুপুরে বাদীর ভাইপো শান্ত তাদের বাড়িতে এসে বলে মিজানুর চাচাকে গরু চোর ভেবে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। ফেসবুকে ঘটনা দেখে তারা দ্রুতই ছুটে আসেন চৌগাছাতে। এরপর মরদেহ যশোর মর্গে শুনে সেখানে ছুটে যান। যশোর থেকে লাশ গ্রহণ করে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এরপর থানায় এসে বাঘারদাড়ি গ্রামবাসিকে অজ্ঞাত আসামি করে এই মামলা করা হয়।

থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে আসামি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দ্রুতই অপরাধীদের আটক করে আইনে সোপর্দ করা হবে।

প্রসঙ্গত. গত ৫ অক্টোবর ভোর চারটার দিকে উপজেলার বাঘারদাড়ি গ্রামের ইদ্রিস আলীর গোয়াল ঘরের পাশে নিহত মস্তান সর্দারকে বাড়ির মালিক ঘুরাফেরা করতে দেখে চোর বলে চিৎকার দেন। এ সময় গ্রামাবাসি একত্রিত হয়ে তাকে ধরে মারপিট করেন। ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করার পর তিনি মারা যান। নিহত মস্তান সর্দার ঝিনাইদাহ জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলার বাকচুয়া লক্ষিপুর গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিন সর্দারের ছেলে।

এদিকে থানায় মামলার খবরে গ্রেফতার এড়াতে বাঘারদাড়ি গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। তারা সকলে আছেন আত্মগোপনে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে তা জানেন না সাধারণ গ্রামবাসি।

গ্রামের লােকজন জানান, কিল, ঘুষি, চড়, থাপ্পড় এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে গ্রামের কিছু লোকজন। অথচ এর খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো গ্রামের লোকজনের। পুলিশ আতঙ্কে গ্রাম ছাড়া হয়ে সবজি ফসলের ক্ষতি হবার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান অনেকে।