মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Wednesday, 07 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
07 October 2026
অন্যান্য

শিগগিরই আসছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা

শিগগিরই গঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলে সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করা, দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের নেতৃত্বে আনতে সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে বিএনপি। ফলে নতুন কমিটিতে কারা আসছেন, তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কমিটিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসতে পারেন, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। কাঙ্ক্ষিত পদ পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে লবিং ও তৎপরতা শুরু করেছেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

আন্দোলনে সক্রিয় ও বিতর্কমুক্ত নেতাদের গুরুত্ব

দলীয় নীতিনির্ধারকদের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও বিতর্কমুক্ত ভাবমূর্তিকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের মতো অভিযোগ নেই—এমন নেতাদের নেতৃত্বে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলো দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। রাজধানীতে সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করাই এর মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

সভাপতি পদে যাদের নিয়ে আলোচনা

দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব ও সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আইয়ুব আলী।

দলীয় সূত্রের দাবি, আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে এবং কয়েক দফা কারাবরণও করেছেন তিনি।

এ ছাড়া সভাপতি পদে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মিজানুর রহমান রাজ, মনিরুল ইসলাম স্বপন ও তসলিম আহসান মাসুমের নামও আলোচনায় রয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নাম

সাধারণ সম্পাদক পদে উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল হক হিমেল, যুগ্ম আহ্বায়ক জুলহাস আহমেদ, রফী উদ্দিন ফয়সাল, কামরুল ইসলাম, তানভীর আহম্মেদ ইকরাম, আবু সালেহ চৌধুরী মানিক, ফরহাদ আলী সজীব ও আরিফ হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে।

এ ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক নেতা মেহেদী হাসান রুয়েল এবং সাবেক সহসভাপতি আবুল হাসান চৌধুরীর নামও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে।

তবে আলোচনায় থাকা এসব নাম এখনো সম্ভাব্য হিসেবেই রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে কারও অবস্থান নিশ্চিত নয়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে পদ পাওয়ার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের বক্তব্য, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক অভিভাবক; তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই তারা মেনে নেবেন।

নতুন কমিটি নিয়ে তৃণমূলে প্রত্যাশা

নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপি বা যুবদলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। নেতৃত্ব বাছাইয়ের নির্দিষ্ট মানদণ্ডও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর একটি। ফলে নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র—দুই পর্যায়েই আগ্রহ রয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার পর মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক কার্যক্রম, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের সংগঠন দুর্বল বা বিভক্ত থাকলে শুধু জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

তৃণমূলকে সম্পৃক্ত রাখার পরামর্শ

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি নতুন কমিটি গঠনের পর তৃণমূলের কর্মীদের সম্পৃক্ত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীরা যেন নিজেদের বঞ্চিত মনে না করেন বা দল থেকে দূরে সরে না যান, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় নিবেদিত নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলে বা তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে নির্বাচনী ফলাফলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

একই ধরনের মত দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং পার্লামেন্টারি রাজনীতি গবেষক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান। তাঁর মতে, কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে নিবেদিত ও যোগ্য নেতাদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় হতাশা তৈরি না করাও গুরুত্বপূর্ণ।