মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Thursday, 08 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
07 October 2026
অন্যান্য

নাগরিকদের গোপন তথ্য বিক্রির অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

সরকারি ই-মেইল ও ভুয়া জিডি-মামলার নম্বর ব্যবহার করে নাগরিকদের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) এবং অন্যান্য গোপন তথ্য সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রির অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার বিভাগ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ডেমরা থানার পুলিশ কনস্টেবল সাইমন হোসেন রাশেদ ও মাসুম মিয়া, ওয়ারী থানার কনস্টেবল নিজাম উদ্দীন এবং তুরাগ থানার কনস্টেবল মো. জিহাদ মিয়া।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডিবির এসআই আবিদুর রহমান বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেন। এতে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ তদন্ত করছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সরকারি কর্মচারী হয়েও প্রতারণার মাধ্যমে বেআইনিভাবে মোবাইল ফোনের সিডিআর সংগ্রহ করেন। পরে নাগরিকদের সিম বা মোবাইল নম্বরের কললিস্ট, সর্বশেষ কলের অবস্থান, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ডিবির সাইবার মনিটরিংয়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে সিডিআর বিক্রির বিষয়টি নজরে আসে। পরে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের তথ্য এবং বিকাশে অর্থ লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে ডিবি। একপর্যায়ে চক্রটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, তুরাগ থানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কনস্টেবল জিহাদ মিয়া থানার ওসির সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে ভুয়া জিডি নম্বর ও একজন এএসআইয়ের নাম উল্লেখ করে ১১টি মোবাইল নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, ডেমরা ও ওয়ারী থানার ওসির সরকারি ই-মেইল এবং ভুয়া মামলার নম্বর ব্যবহার করে কনস্টেবল সাইমন হোসেন রাশেদ, মাসুম মিয়া ও নিজাম উদ্দীন সিডিআর সংগ্রহ করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে এসব তথ্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।